আত্মহত্যার ‘দোষ’ কাটাতে নরবলির আয়োজন আসামের এক পরিবারের

0

Last Updated on

বিজ্ঞানের যে যুগে দাঁড়িয়ে মানুষ ভাবছে যে এক টুকরো জমি চাঁদে বোধহয় এবার কিনেই ফেলবেন সেই যুগে দাঁড়িয়েও নরবলির মত ঘটনার কথা শুনতে হয় | না নরবলি হয়নি | তবে তার আয়োজন সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল | যদি না কিছু বিজ্ঞান সচেতন শুভবুদ্ধির মানুষ সেখানে না পৌঁছতেন , তবে তা হয়ে যেতই তাতে কোন সন্দেহ নেই |

ঘটনাটি আসামের উদালগুড়ি জেলার কালাইগাঁও থানা অধীন কুলসিপার এলাকার | এই এলাকায় এক তরুণী আত্মহত্যা করে । যার অভিশাপ থেকে মুক্ত হতে গোটা পরিবারকে তন্ত্র সাধক রমেশ শাহরিয়া বিধান দেন,শনিবার বাড়ির সকলকে উলঙ্গ হয়ে পূজা করতে হবে ও নরবলি দিতে হবে | তবেই দোষমুক্তি ঘটবে পরিবারের | ঠিক সেই মতই বাড়ির লোকেরা পুজোর সব আয়োজন করে অতি সন্তর্পণে | সেই পুজো শুরু হয় শনিবারে নির্দিষ্ট সময় | নরবলির জন্য তখন আনা হয়েছে এক শিশুকেও | শিশুর চিতকারে এলাকার মানুষের মনে সন্দেহ জাগে |

এলাকার মানুষ টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন । পুজো ভন্ডুল হতে দেখে পরিবারের লোকেরা দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে পড়ে | জমায়েত ঠেকাতে নিজেরাই তাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় | কুঠার নিয়ে নিজেদের গাড়ি নিজেই ভাঙতে শুরু করে | পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যখন সেই পরিবারের সদস্যরা এলাকার মানুষের পিছনে দা কুড়ুল নিয়ে ধাওয়া করতে শুরু করেন | সেই সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালাতে বাধ্য হয় বলে জানা যায় । ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকল আধিকারিকেরা পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন ।

খন্ডযুদ্ধের শেষে তান্ত্রিক রমেশ মারা যায় | গুলির আঘাতে জখম পরিবারের বাকি সদস্যদের গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয় । এই ঘটনার জেরে এলাকা এখন রয়েছে থমথমে | অবোধ শিশুর প্রাণ রক্ষায় গ্রামের মানুষের প্রয়াসকে সাধুবাদ জানান এলাকার মানুষ থেকে প্রশাসনের কর্তারা ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here