ধর্ষণের অভিযোগের পাল্টা নিকাহের তত্ত্ব কানপুরের নাবালিকার ধর্ষক জাভেদের

0

Last Updated on

কানপুরের নৌবাস্তা এলাকায় গড়ে উঠেছে অনেক গুলি মাদ্রাসা | একটিরও রাজ্য সরকার অনুমোদিত নয় বলেই খবর | এমনই একটি মাদ্রাসা আল জামিয়াতুল বানাত গুলশানে ফাতিমা | শুধুই মেয়েদের জন্য এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কানপুর ও তার আশেপাশের জায়গা থেকে মেয়েরা পড়তে আসে | মাদ্রাসার গায়ে আটকানো নোটিশ রামজানের পর ১৫ই জুন থেকে ফের খুলবে মাদ্রাসা | কিন্তু এর মাঝেই ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার প্রধান জাভেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ | অভিযোগ, তারই মাদ্রাসার ছাত্রী ১৫ বছরের শগুফতাকে ধর্ষণ করে জাভেদ | ব্যাঙ্কের জরুরি কাগজে সইয়ের নামে মাদ্রাসায় নিয়ে গিয়ে জাভেদ প্রায় এক ঘন্টা ধরে পাশবিক অত্যাচার চালায় সেই ছাত্রীর উপরে | সে সময় মাদ্রাসার দুই শিক্ষিকা উপস্থিত থাকলেও কেউ শগুফতাকে সাহায্যে এগিয়ে আসেননি | কোনক্রমে পালিয়ে সেখান থেকে বাড়ি এসে মাকে সব বলে ওই ছাত্রী | স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় | প্রথমে জাভেদের পরিবারের থেকে দশ লাখ টাকা দিয়ে মুখ বন্ধের চেষ্টা করা হয় বলে জানায় ওই ছাত্রী মা | তার মেয়ে ছাড়াও অন্য ৫৫টি মেয়ের কথা ভেবেই তিনি জাভেদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামেন | এরপরই জাভেদ নতুন এক কৌশল নেয় | পুলিশের সামনে তার কৃতকর্মের স্বীকার করে জাভেদ বলে যে শগুফতাকে নিকাহ করেছে | কারণ সে বলে ওই ছাত্রী বয়স ১৫ নয়,তার বয়স ১৯বছর | ওই ছাত্রীর বাবা-মা সেকথা শুনে চমকে ওঠেন| জন্মপত্রের কাগজ দাখিল করেন পুলিশের কাছে | তার মা বলেন, মেয়ের বাবার থেকে বড় একজনকে জামাই মেনে নেবেন কীভাবে ?

এলাকার লোক প্রতিপত্তিশালী জাভেদের নিকাহ তত্ত্বকে বিশ্বাস করতে থাকে ধীরে ধীরে | গুটিকয়েক লোক ছাড়াও কেইই প্রায় দাঁড়ায়না এই পরিবারটির পাশে | রাতারাতি মাদ্রাসা চালিয়ে ধনী হয়ে ওঠা জাভেদের অর্থের লোভেই শগুফতা এখন জাভেদকে ফাঁসাতে চাইছে,বিশ্বাস করতে শুরু করে মহল্লাবাসী | পুলিশ সেই নিকাহ নামা দেখানোর নির্দেশ দেন জাভেদকে |

এখানেই আতঙ্কিত ওই ছাত্রীর পরিবার | বেশ কিছু সম্ভাবনার কথা ভেবে | শগুফতাকে দিয়ে ভয় দেখিয়ে কিছু সাদা গাগজ সই করিয়ে নিয়েছিল জাভেদ | হতে পারে সেটিকেই নিকাহনামা বানিয়ে থাকতে পারে সে | আর তাই গ্রাহ্যই হতে পারে আদালতে নিকাহনামা হিসেবে |

দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম মহিলাদের মধ্যে সচেতনতার কাজ কর মুম্বইয়ের একটি সংস্থার কর্ণধার বলেন, বেশিরভাগ প্রত্যন্ত জায়গায় নিকাহনামাতে যে প্রয়োজনীয় চারজন সাক্ষর থাকার কথা তা থাকেনা | কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের লে়টারহেডে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সাক্ষর থাকলেই সেটাকে নিকাহনামা বলে মেনে নেয় আদালত | কানপুরের জাভেদের ক্ষেত্রে সেই প্রতিষ্ঠানের যেহেতু সেই প্রধান তাই এই সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিচ্ছেন না এই ছাত্রীর পরিবার | এছাড়াও ১৫বছর হলেই মুসলিম আইন অনুযায়ী বাবা-মায়ের অনুমতি ছাড়াই নিকাহ করতে পারে মুসলিম মেয়েরা,বলে জানান ওই সমাজকর্মী |

শগুফতার আগেও আরেকটি মেয়ে এই মাদ্রাসার উপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে হাত-পা ভেঙ্গেছিল | শগুফতার পরিবারের আশঙ্কা তার সঙ্গেও জাভেদ হয়তো এই রকম কোনো অপকর্মই করতে চেয়েছিল | মেয়েটির পরিবার ওই এলাকার না হওয়ায় পুলিশের কছে কোন অভিযোগ জানায়নি |

জাভেদের মত ধর্মীয় প্রাতিষ্ঠানিক প্রধানদের অপকীর্তিকে ধর্মীয় আইনের আশ্রয় নিয়ে চেপে রাখার বিরোধীতা করছে মুসলিম সমাজই | পবিত্র নিকাহের মোড়কে পাশবিক অত্যাচারকে মুড়ে ফেলার বিরুদ্ধে শগুফতার পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষিত সমাজকেও প্রতিবাদের আহ্বান করছেন তারা |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here