বাঙালি সেন্টিমেন্ট জাগাতে সংসদে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ থেকে ‘বাংলা’-র দাবিতে সোচ্চার তৃণমূল !

0

Last Updated on

ভাটপাড়া, কাঁকিনাড়ার অশান্ত জায়গার মানুষেরা কেমন আছেন তা দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন বিদ্বজনদের একাংশ | সব দেখে শুনে তাঁরা যা বললেন সংবাদ মাধ্যমের সামনে তা হল দুই যুযুধান পক্ষের মাঝে পড়ে পু্রাণ ওষ্ঠাগত সাধারণ মানুষের | কিন্তু যা বললেন না তা হল কীভাবে ভোট পরবর্তী সংঘর্ষ এই ভয়াবহ আকার নিল ? তাতে শাসক দলের আদৌ কোন ভূমিকা ছিল কিনা ? ঘটনার পর্যালোচনা করে রাজনৈতিক মহলের মত, হিংসা বিধ্বস্ত ভাটপাড়ায় গিয়ে সাময়িক উত্তেজনা বশত মুখ্যম্ন্তরী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে কথা গুলি বলেথিলেন তাতে খানিকটা ইন্ধন যোগায় সেই আগুনে | কারো মতে আবার ওই মাটিতে দাঁড়িয়ে বাঙালি-অবাঙালিদের মধ্যে সুস্পষ্ট বিভাজনের সুর ছিল তাঁর গলায় | তারপর থেকেই অশান্তি কয়েক গুণ বেড়ে যায় সেখানে ,অন্তত ঘটনাক্রম তাই বলে | তখন থেকেই কয়েরটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে আপমর জনসাধারণের মনে তবে কি এই রাজ্য শুধুই বাঙালিদের জন্য ?

ঠিক সেই সময়ে বৃহস্পতিবার সংসদের উচ্চ কক্ষে পশ্চিমবঙ্গের নাম পাল্টে “বাংলা” করার দাবি জানালেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় । তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের নাম পাল্টে বাংলা, ইংরেজি ও হিন্দি ভাষায় “বাংলা” রাখা হোক।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, স্বাধীনতার পর র‍্যাডক্লিফ্ বাঁটোয়ারা অনুযায়ী পূর্ব বঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি হয়েছিল । পূর্ববঙ্গ পরে হয় স্বাধীন বাংলাদেশ । তাই এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ নামের কোনো তাৎপর্য নেই । আরও জানান, প্রায় একহাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দ নাগাদ এই এলাকায় দ্রাবিড় জাতির বাস ছিল । সেই সময় থেকেই এই অঞ্চল বঙ্গ থেকে বাংলা নামে পরিচিতি লাভ করে |

গত ২০১৮-র জুলাইয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গের নাম পাল্টে “বাংলা” হওয়ার মর্মে বিল পাশ হয় । বিলটি এখন কেন্দ্রীয় সরকারের বিবেচনাধীন হয়ে রয়েছে । এ নিয়ে মাঝে রাজ‍্যসভার মহাসচিবকে চিঠিও দিয়েছেন বলে জানান সুখেন্দু শেখরবাবু। তাঁর দাবি, বাঙালিদের প্রকৃত পরিচয় ফিরিয়ে দিতে রাজ‍্যসভায় পাশ হওয়া নাম বদলের এই বিলটি কার্যকর করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারকে বলা হচ্ছে | কিন্তু বিলটি এখনো পড়ে রয়েছে । প্রসঙ্গত তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাঙালিকে জাগ্রত করতে ,তাদের পুরোনো সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় | মহানগরের পথঘাট,সেতু,মেট্রো স্টেশনের নাম কৃতী বাঙালি মনীষীদের নাম দিয়ে তিনি তাঁদেরকে বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছেন | কিন্তু বিজেপির মত অবাঙালি দের সংগঠনকে রাজ্যে কুখতেই কি নতু নকরে তাঁর এই বাঙালি তাস কিনা কা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক মহল | তাদের মতে আসন্ন পৌলসভা ও তারপর বিধানসভা নির্বাচনে হয়তো শাসক গড় টিকিয়ে রাখতে তেমনই কৌশল নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here