আততায়ীর হাতে খুন মোস্ট ওয়ান্টেড হিন্দু নেতা কমলেশ তিওয়ারি

0

Last Updated on

কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতা বলেই বরবর পরিচিত কমলেশ তিওয়ারি |অযোধ্যা জমি বিতর্কে মধ্যেই খবরের শিরোনামে এসেছিল তার নাম | হজরত মহম্মদকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে সারা ভারত জুড়ে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল বের হয় । ফাঁসি চেয়ে আন্দোলনও হয় ভারতের বুকে। এই বাংলায় ফাঁসির দাবিতে আন্দোলনের নামে জ্বালানো হয়েছিল মালদা’র কালিয়াচক থানা । বিজনৌরের জামা মসজিদের ইমাম মৌলানা আনারুল হকের তরফে হিন্দুত্ব বাদী এই নেতার মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ৫১ লাখ টাকা ! পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যাওয়ায় তৎকালীন উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করলেও পরে, জামিনে ছাড়া পান কমলেশ ।

২০১৭-তে হিন্দু সমাজ পার্টি প্রতিষ্ঠার আগে হিন্দু মহাসভার সভাপতি ছিলেন কমলেশ তিওয়ারি । উত্তরপ্রদেশে লখনউয়ের খুরশিদবাগ এলাকায় নিজের অফিসে হিন্দু সমাজ পার্টির এই নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হল শুক্রবার । খুন করল দুজন অজ্ঞাত পরিচয় দুস্কৃতী । গেরুয়া পোশাকে হাতে মিষ্টির বাক্স নিয়ে তিওয়ারির বাড়িতে আসে দুই যুবক । জানা যায় মিষ্চির পরিবর্ত ওই বাক্সেই লুকোনো ছিল বন্দুক ও ছুরি । কমলেশ তিওয়ারি সামনে আসতেই বন্দুক থেকে গুলি চালানো হয় ।

উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনৌতে হিন্দু সমাজ পার্টির নেতা কমলেশ তিওয়ারিকে গুলি করার পরে শ্বাসরোধ করা হয়েছিল। কমলেশ তিওয়ারি চিকিৎসার সময় ট্রমা সেন্টারে মারা যান। খুরশিদ বাগের হিন্দু সমাজ পার্টি অফিসে দেখা করতে এসে দুর্বৃত্তরা মিষ্টির বাক্সে ছুরি এবং বন্দুক নিয়ে আসে ।কমলেশকে গুলি করার পর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় ওই আততায়ীরা | ঘটনার দতন্তে নেমে চারদিকের নজরদারির সাহায্যে অভিযুক্তদের অনুসন্ধানের পাশাপাশি আততায়ীর ফোনের বিশদ অনুসন্ধান করছে পুলিশ ।

আরও পড়ুন: আবারও প্রাসঙ্গিক রামমন্দির ইস্যু, ১৫ই ‌অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে শীর্ষ আদালতে মামলার শুনানি https://risingbengal.in/desh/prasongik-ram-mandie-issue/

এ ঘটনায় গুরুতর আহত কমলেশকে দ্রুত ট্রমা সেন্টারে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন । পুলিশ হামলাকারীর সন্ধান শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে কার্তুজ এবং ছুরি পাওয়া গেছে। কমলেশ তিওয়ারীর ঘাড়ে গভীর আঘাত রয়েছে । মনে করা হচ্ছে, গুলি করার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় গভীর আঘাত করা হয়েছে |

প্রসঙ্গত তৎকালীন হিন্দু মহাসভা নেতা কমলেশ তিওয়ারি ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে নবী মুহাম্মদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত বক্তব্য পেশ করেন । এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলার জন্য তিনি বর্তমানে জামিনে মুক্ত ছিলেন। এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ কমলেশ তিওয়ারীর উপর জাতীয় নিরাপত্তা আইন (রসুকা) সরিয়ে দিয়েছিল । প্রশ্ন উঠছে কট্টর হিন্দু পন্থী এই নেতার খুন কীভাবে যোগি রাজ্যে করার সাহস পেল দুষ্কৃতীরা ?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here