আসামে বন্যার বলি বেড়ে ৪৭, নতুন করে দেড় লক্ষ মানুষকে সরানো হল ত্রাণ শিবিরে

0

Last Updated on

লাগাতার ভারী বর্ষণে বানভাসি আসামের সার্বিক অবস্থার ক্রমাবনতি অব্যাহত | এখনও পর্যন্ত ৫৪ লাখ মানুষকে সরিয়ে আনা হয়েছে নিরাপদ স্থানে | গুয়াহাটি সহ মোট ক্ষতিগ্রস্ত জেলার সংখ্যা আসামে ২৭টি বলে জানাচ্ছে এনডিআরএফ | কাজিরাঙ্গা জাতীয় উদ্যানের ৯৫শতাংশ জলের তলায় থাকায় মারা গিয়েছে অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে বিরল প্রজাতির একশৃঙ্গ গন্ডার | যদিও বন দফতরের সূত্রে বলা হয়েছে পশুদের বনের ভিতরেই অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় স্থানান্তরিত করার প্রক্রিয়াও চলছে সমানভাবে |

ব্রহ্মপুত্র নদের জল এখনও বিপদ সীমার অনেকখানি উপর দিয়ে বইছে | উচ্চতা প্রায় ৩৬.০৭ মিটার হলেও পূর্বাভাস অনুযায়ী শনিবার এই জলের পরিমাণ খানিকটা বেড়ে ৩৬.৫০মিটার হবে | তবে তা এখনও অবধি সর্বাধিক উচ্চতা ৩৭মিটারকে ছাপিয়ে যাবেনা বলেই মনে করছেন সেচ দফতরের কর্তারা | ন্য়াশনাল সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন থেকে ইতিমদ্য়েই সচেতন করা হচ্ছে বানভাসি মানুষদের | জলের উচ্চতা ১৫সেন্টিমিটারের বেশি হলে তা কাউকে ফেলে দিতে পারে এবং হাফ মিটার উচ্চতা কোন গাড়িকে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে | তাই বন্যার জলে হাঁটা,ভাসা, সাঁতারকাটা বা গাড়ি চালানোর মত কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে |

বন্যা কবলিত হওয়ায় এখনও অবধি গোটা রাজ্য জুড়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩৬জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেলেও শুক্রবার এই মৃতের সংখ্যা একধাক্কায় ১০জন বেড়ে যায় | শুক্রবার এর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৭ | নতুন করে আরও ১.৫লক্ষ মানুষকে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জায়গায় সরিয়এ নিয়ে যাওয়া হয়েছে | এনডিআরএফের থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী ভয়ানক এই বন্যায় এখনও অবধি ৪৯লক্ষ মানুষকে ঘরছাড়া হতে হয়েছে | গোটা রাজ্যে চাষযোগ্য প্রায় ১.৭৯লক্ষ জমি জলের তলায় | ব্রহ্মপুত্র এখনও গুয়াহাটি,গোয়ালপাড়া,ধুবরি,ধানসিঁড়ি,জিয়া ভরলিতে বিপদসীমার অনেকখানি উপর দিয়ে বয়ে চলেছে |

এখনও অবধি গোটা রাজ্যে ৭৫০টি ত্রাণ শিবির ও ৩৫০টির উপরে ত্রাণ বিলি করার শিবির খোলা হলেও তা যথেষ্ট নয় বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের তরফে | রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হিমান্ত বিশ্ব শর্মা জানান, বন্যার ব্যাপকতা সরকার বুঝতে সক্ষম হয়নি | ফলে চাহিদার তুলনায় যোগানের ঘাটতি রয়েছে | আসামের নানা প্রান্ত থেকে তাই মাঝে মধ্যেই উঠে আসছে ত্রাণ সামগ্রী না মেলার খেদ |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here