উপবাস না উপবাঁশ ?

0

Last Updated on

দেবাশীষ লাহা

আসুন একটি সহজ প্রশ্ন করি? নিজেদের যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কি কি প্রস্তুতি নেওয়া উচিত? বুঝলেন না? বেশ সহজ করে বলি। ধরুন আপনাকে একটি জনগোষ্ঠীর সেনাপতির দায়িত্ব দেওয়া হল। উঁহু সীমান্ত রক্ষার জন্য যে সেনাবাহিনীর দরকার হয় তেমন নয়। আপনাকে বলা হল আপনি এমন একটি যোদ্ধা বাহিনীর জন্ম দিন যারা সেনাবাহিনীর পোশাক পরবেনা। সীমান্ত বা দূর্গেও থাকবেনা। জনতার মধ্যেই থাকবে, সাধারণ নাগরিক হিসেবে সংসার ধর্ম করবে। শুধু প্রয়োজনের সময় মানে যখন অস্ত্র ধরার দরকার পড়বে তখনই লড়াইয়ের ময়দানে নামবে? কি বললেন? নরওয়ে,ইজরায়েল, উত্তর কোরিয়া ইত্যাদি দেশের মত? মানে যে সব দেশে বাধ্যতামূলক সামরিক শিক্ষার ব্যবস্থা আছে? উঁহু ঠিক তা নয়। তখন তো পরিবার ছেড়ে দু তিন বছরের জন্য প্রশিক্ষণ নিতে যেতে হবে। তেমনটাও নয়। আপনি এমন কিছু ভাবুন যাতে জনগণের মধ্যে থেকেও সাধারণ জীবন যাপন করেও নিজেকে যোদ্ধা করে তোলা যায়৷ তখন কি করবেন? ধরা যাক আপনার দায়িত্বে কয়েক কয়েক লাখ কমবয়সী ছেলে মেয়ে। কিশোর বয়স থেকেই তাদের যুদ্ধের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু আপনার হাতে কোনো গুলি বারুদ মেসিন গান দেওয়া হবেনা। এত অস্ত্রের যোগানও সম্ভব নয়। আপনার কাজ হল এদের শারীরিক এবং মানসিকভাবে তৈরি করা। কৈশোর থেকেই নিজেদের যুদ্ধের জন্য গড়ে তোলা। আপনি কি করবেন? আচ্ছা আমিই বলে দিচ্ছি। তার আগে আর একটি প্রশ্ন। বলুন তো যুদ্ধক্ষেত্রে, লড়াইয়ের ময়দানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি কি? কি বললেন গুলি বারুদ? অস্ত্র শস্ত্র? উঁহু। এর চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল খাদ্য এবং পানীয়। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র শস্ত্রের অভাব তেমন হয়না। যোগান ভালই থাকে। নিজের না থাকলেও মৃত সৈনিকের কাছ থেকেও রাইফেল গোলাবারুদ পেয়ে যেতে পারেন। রণক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল খাদ্য এবং পানীয় কারণ এ দুটির যোগান প্রায়শই বিঘ্নিত হয়। কিভাবে? প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্গম এলাকা, সরবরাহ বা সাপ্লাই লাইনে শত্রুর আক্রমণ। খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থাটিকে বন্ধ করে দিতে পারলেই অর্ধেক যুদ্ধ জেতা হয়ে যায়। পৃথিবীর অনেক যুদ্ধ শুধু এই পথেই বিজিত হয়েছে। প্রখ্যার নাট্যকার বার্নার্ড শ রচিত একটি বিখ্যাত নাটক Arms and the Man! তার মুখ্যচরিত্রটিই একজন পোড় খাওয়া যোদ্ধা। নাম ব্লান্সলি! একটি দৃশ্যে তিনি বলছেন –” যুদ্ধক্ষেত্রে দু রকমের সৈনিক দেখা যায়। অনভিজ্ঞ অর্থাৎ আনকোরা, অভিজ্ঞ অর্থাৎ পোড় খাওয়া। আনকোরার দল শুধু গুলি বারুদ সঙ্গে নেয়, অভিজ্ঞরা ব্যাপক পরিমাণে খাবার দাবার সঙ্গে রাখে। আমি চকলেট রাখি। কারণ এটি যথেষ্ট এনার্জি দেয় এবং বহন করাও সোজা।” এই জন্যই সেই চরিত্রটির নিক নেম হয়ে যায় চকলেট ক্রিম সোলজার!

এবার বুঝলেন তো! এবার আপনি চাইলেন আপনার দায়িত্বে থাকা কিশোরদের এখন থেকেই এই পরিস্থিতির জন্য তৈরি করবেন। যাতে এই জাতীয় অবস্থাতেও তারা টিকে থাকতে পারে। সক্ষম থাকতে পারে। আপনি ভাবতে বসলেন। কি এমন উপায় আছে যাতে করে কিশোর বয়স থেকেই ওদের এই পরিস্থিতির জন্য তৈরি করা যায়। ভাবছেন ভাবছেন ভাবছেন। কিছুতেই মাথা কাজ করছেনা৷ আচমকা একটা বিদ্যুৎ রেখা! আপনার মগজে যেন একটা হাজার ওয়াটের আলো জ্বলে উঠল। ইউরেকা ইউরেকা বলে আপনি লাফিয়ে উঠলেন। কিশোর বাহিনীর সামনে দাঁড়িয়ে আপনি সোচ্চারে ঘোষণা করলেন — হে আমার প্রিয় অনুগামীরা, এসো আমরা সবাই একটি নতুন অভ্যাস অনুশীলন করা শুরু করি। আগামীকাল সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আমরা কিছুই ভক্ষণ করবনা। এক বিন্দু জল পর্যন্ত নয়। এ বড় কঠিন কাজ। কিন্তু তোমাদের পারতেই হবে। তোমরা রাজি তো?

হ্যাঁ, স্যার আমরা রাজি। সবাই রাজি৷

আপনার প্রশিক্ষণের প্রথম ধাপটি শুরু হল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here