তিরুমালার ওয়েবসাইটে হিন্দু ধর্মগ্রন্থের ভিতর কোরাণ ও বাইবেলের উদ্ধৃতি ঘিরে বিতর্ক

0

Last Updated on

কদিন আগেই তিরুপতি মন্দিরের ৪৪জন অহিন্দু কর্মচারীকে না রাখার মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহনের সিদ্ধান্তে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল | অন্ধ্র সরকার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল,হিন্দু ধর্ম নিলে তবেই কাজ করা যাবে ওই মন্দিরে | বাকিদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে | এই নতুন বিতর্কের মধ্যেই ফের ধর্ম নি‌যে তরজা শুরু একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে | মন্দিরের ই-বুকস.তিরুমালা .ওআরজির ওয়েবসাইটটিতে বেশ কয়েকটি পাতায় খ্রীষ্ট ধর্মের কথা ছাপানোকে নিয়ে নতুন বিতর্ক দানা বাঁধে | ২০১৫ সালে ‘ভক্তি গীতা মুহূর্ত লহরী’ নামে একটি হিন্দু ধর্মগ্রন্থ প্রকাশ পায় | সেই বইটির ই-সংস্করণটিতে দেখা যায় ১৮৩,১৮৪ ও ১৮৫ নম্বর পাতায় সাঁই বাবার পরিবর্তে লেখা রয়েছে যীশু খ্রীষ্টের নানান কথা | অথচ বইয়ের সূচিপত্রে সাঁই বাবার অনুচ্ছেদের উল্লেখ থাকায় নানা প্রস্ন উঠতে থাকে | প্রবল চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত টিটিডি বা মন্দির পরিচালন কমিটি ই-বুকটিকে পাবলিক ডোমেন থেকে সরাতে বাধ্য হয় | এই নিয়ে লিগ্যাল রাইটস প্রোটেকশন ফোরামের সভাপতি এ সন্তোষ এই ঘটনায় টিটিডির কাছে অভিযোগ পত্র জমা দিয়ে বিষয়টি জানতে চান |

আরও পড়ুন:যাদবপুর কান্ডে এবিভিপিকে দুষে বিতর্কে বিজেপির লিগ্যাল সেলের এক সদস্য

এটি ছাড়াও হিন্দু ধর্মের উপর লেখা আরেকটি বইয়ের মধ্যে কোরাণ ও বাইবেলের বেশ কিছু অংশ ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন এই আইনজীবী | ‘আরশা জ্যোতি’ নামে ওই বইটির তেলেগু ভাষায় অনুদিত বইটির মাঝে কোরাণ ও বাইবেলের কিছু উদ্ধৃতি তুলে দেওয়া হয়েছে এই দুটি ক্ষেত্রেই মন্দির কমিটিকে কাঠগোড়ায় দাঁড় করিয়েছেন সন্তোষ | তাঁর মতে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ছাপাতে দেওয়ার পরে কেন তারা ঠিক করে দেখে নেননি ? এই ধরনের ঘটনা বারবার হওয়ায় হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত লাগছে বলেই মনে করছেন তিনি |

আরও পড়ুন:কাশ্মীর প্রসঙ্গ টেনে ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে যুদ্ধের আহ্বান পাকিস্তানের বিতর্কিত ধর্মপ্রচারকের

প্রসঙ্গত বহুদিন ধরেই খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ওই মন্দিরের নানা কাজে ঢোকানোর অভিযোগ শোনা যাচ্ছে | জগনমোহনের বাবা ওয়াই এসআরের আমল থেকেই জোর করে ক্ষমতার অপব্যবাহের করে এই কাজ তিনি করে আসছেন বলে বিরোধীদের অভিযোগ | যদিও ২০০৭ সালে আদালতের রায়ে পরিষ্কার বলা আছে হিন্দু ধর্মীবলম্বীরা ছাড়া কেউই তিরুপতিতে কাজের জন্য যোগ্য নন | পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাই তড়িঘড়ি জগনমোহন অহিন্দুদের বিরুদ্ধে এই ফরমান আনেন বলে বিরোধীদের অভিযোগ| তবে রাজনৈতিক সমীকরণ যাই হোক না কেন হিন্দু মন্দিরে অন্যান্য ধর্মের কর্মীদের নিয়োগ কি তবে হিন্দু ধর্মকে দাবিয়ে রাখার জন্যই ইচ্ছাকৃতভাবে করা , প্রশ্ন করছেন অনেকেই |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here