প্রাচ্যের লাভ জিহাদ, পাশ্চাত্যের গ্রুমিং –একই মুদ্রার দুটি পিঠ/ দেবাশিস লাহা

0

Last Updated on

LL2nd April, 2019 ! হ্যাঁ, ২০১৯ এর ২রা এপ্রিল, [অর্থাৎ এবছর] এই দেশ তথা রাজ্যের ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় তারিখ ! অভূতপূর্বও বটে ! এই দিনটিই এমন একটি ঘটনার প্রথম সাক্ষী হয়ে থাকল, যা স্বাধীন ভারতে আগে কখনও ঘটেনি। অথচ ঘটা উচিত ছিল ! কী সেই ঘটনা যাকে কেন্দ্র করে আস্ত একটি মহাভারত লিখে ফেলা যায় ? অবশ্যই জানাব। কিন্তু আর একটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখের উল্লেখ না করলে ঘটনাটির মূলে পৌঁছনো যাবেনা। ২০১৯ এর ১১ই মার্চ ! হ্যাঁ এদিনই এক অসহায় পিতা জোড়াবাগান থানায় একটি বিশেষ অভিযোগ নিয়ে উপস্থিত হন। কী অভিযোগ ?

খোদ কলকাতাতে দুজন হিন্দু মেয়েকে অপহরণ করে ইসলামে ধর্মান্তকরণ করার অভিযোগ । দুজন মুসলিম যুবকের বিরূদ্ধে। করিতকর্মা এই যুবকদ্বয় জোড়াবাগান থানা এলাকার বাসিন্দা । সংবাদসূত্র [যুগশঙ্খ ডিজিটাল ডেস্ক | April 4, 2019 ] তেমনটাই জানাচ্ছে। হতভাগ্য পিতার দুই কন্যা বিনীতা ঠাকুর ও পরি ঠাকুর (নাম পরিবর্তিত) ,একজন নাবালিকা এবং একজন প্রাপ্তবয়স্কা। কবে কখন অপহৃত হয়, নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। প্রাণাধিক কন্যাদের অবিলম্বে উদ্ধারের আর্জি জানিয়ে গত ১১ মার্চ জোড়াবাগান থানায় অভিযোগ জানানো হয় । তিনি জানতে পারেন স্থানীয় দুই ইসলাম ধর্মাবলম্বী যুবক শাহবাজ খান এবং আহমেদ খান বিনীতা এবং পরিকে অপহরণ করেছে । আরও জানা যায়, যুবকদ্বয় প্রাথমিক আলাপে নিজেদের হিন্দু বলেই পরিচয় দিয়েছিল। ওই দুই যুবকের বিরূদ্ধে জোড়াবাগান থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করা সত্ত্বেও পুলিশ কোনও এফআরআই দায়ের করেনি । এমনটাই খবর। বলাই বাহুল্য পুলিশের ভূমিকাতে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।পুলিশ ছোট বোন পরিকে উদ্ধার করেছে এই মর্মে সংবাদ প্রচারিত হলেও, বিশ্বস্ত সূত্রে প্রকাশ নাবালিকা হওয়ার কারণে [আইনগত সমস্যা হতে পারে এই আশংকায়] অপহরণকারীরাই মেয়েটিকে ছেড়ে দেয়। পরিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যাচ্ছে যুবকদ্বয় তাদের ভীতি প্রদর্শন করে। তাদের সঙ্গে না গেলে মা-বাবাকে হত্যা করা হবে। ভীত সন্ত্রস্ত বিনীতা এবং পরির সামনে আর কোনো পথ ছিলনা। এরপর তাদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং বিবাহে বাধ্য করা হয়। বড়বাজার এলাকার “বড়ি মসজিদে” ধর্মান্তর করে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।অসহায় পিতা জানিয়েছেন, ছোট মেয়েকে পুলিশ “উদ্ধার করে দিলেও” তার কোনও মেডিক্যাল পরীক্ষা করেনি। শুধু তাই নয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পস্কো (POSCO ) ধারাও প্রয়োগ করা হয়নি । এরকরম নিরুপায় হয়ে গত ১২ মার্চ জোড়াবাগান থানায় আর একবার লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু বড় মেয়ে বিনীতাকে পুলিশ এখনও উদ্ধার করতে পারেনি।

অবাক হচ্ছেন ? পাকিস্তান নয়, আফগানিস্তান নয়, বাংলাদেশও নয় ! ভারতবর্ষ ! না, কোনো ভিন রাজ্য নয়। আপনার আমার জন্মভূমি, সুপ্রিয় পশ্চিমবঙ্গ ! দূর দূরান্তের অজ পাড়াগাঁ নয়। তিলোত্তমা কলকাতার বুকে এই দুঃসাহসিক জিহাদি কার্যকলাপ ! প্রিয় পাঠক, নিশ্চিত জানি এই মুহূর্তে আর একটি হাহাকারের ছবি আপনাদের চোখের সামনে ভেসে উঠেছে ! আর এক হতভাগ্য, অসহায় পিতা ! এ রাজ্য, এদেশ নয়, প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের। পুলিশ চৌকি ছুঁয়ে তাঁর বুক ফাটা আর্তনাদ এদেশেরও আনাচে কানাচে পৌঁছে গিয়েছিল। এই হতভাগ্য পিতাটিও একই বর্বরতার শিকার। তাঁর দুই কন্যা রীনা মেঘওয়ার, রবিনা মেঘওয়ার। প্রথম জনের বয়স বারো, দ্বিতীয় জনের চোদ্দ ! সিন্ধ প্রদেশের ঘোটকি জেলা থেকে তাদের অপহরণ করে ধর্মান্তকরণ করা হয়। তারপর আর কি ! আবহমান কাল ধরে যা চলে আসছে। বলপূর্বক বিবাহ ! হ্যাঁ এভাবেই বিধর্মী নারীদের দখল করতে হয়। জমির মত। এভাবেই দার-উল-হরব একদিন দার-উল-ইসলাম হয়ে ওঠে। নিছক জমি নয়, নারী গর্ভেও বপন করতে হয় প্রার্থিত ধর্মের বীজ। মোহম্মদ বিন কাশেমের সিন্ধু জয় থেকে শুরু হওয়া এই নারী ভূখণ্ড দখলের রীতি
কাশ্মীরের কশাই সিকান্দার শাহ মিরির শাসন কালে নারকীয় মাত্রা ছুঁয়ে ফেলে। যার ফলশ্রুতিতে পণ্ডিতদের এই বাসভূমিটিও মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ হয়ে যায়। জুদাইজম বাদ দিয়ে [ যেহেতু ইহুদি একটি রেইস বা জাতি গোষ্ঠী। ধর্মান্তকরণের মাধ্যমে সহজেই ইহুদি হওয়া যায়না। সেই প্রক্রিয়া প্রচলিত নেই বলেই সমগ্র বিশ্বে ইহুদির সংখ্যা মাত্র এক কোটির কিছু বেশি।] খ্রিশ্চিয়ানিটি এবং ইসলাম এই দুটি আব্রাহামিক ধর্মই religious conversion এর মাধ্যমেই বিশ্ব জুড়ে নিজেদের শাসন এবং আধিপত্য স্থাপন করেছে। বলাই বাহুল্য ব্রিটিশ ভারত ছাড়ার পরে গতি হ্রাস পেলেও প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষ মিডিয়া, রাজনৈতিক দল এবং বিক্রি হয়ে যাওয়া বুদ্ধিজীবীদের প্রশ্রয়ে সেটি অন্তঃসলিলা ফল্গুর মত বয়ে চলেছে। বিনীতা এবং পরি এই হিমশৈলের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র চূড়া মাত্র। এ তো ১২ মার্চের অভিযোগ। ২০১৯ এর ২রা এপ্রিল কি ঘটল ? কী সেই অভূতপূর্ব ঘটনা ? এই তারিখেই রাজ্য পুলিশের ডিজি শ্রী বীরেন্দ্রকে জাতীয় মহিলা কমিশন এ বিষয়ে একটি সুয়ো মোটো নোটিস পাঠায়। কমিশনের চেয়ার পার্সন রেখা শর্মার সেই স্বতঃপ্রণোদিত বয়ানটিই একটু পড়ে নেওয়া যাক—

Dear Mr.Birendra, 2nd April, 2019
The National Women commission has taken suo motu cognissance of media report “ 2 Hindu girls converted, forcefully married, not in pakistan, but in Kolkata appeared in www. Mynation.com dated 1/4/2019 wherein it has been reported that a father has alleged that his two daughters including a minor were forcibly converted to Islam and married off after being threatened to murder their parents and attack their faces with acid. It is further noted that the police has not registered the FIR and no action has been taken in the matter.

The commission has taken a serious note of the report that despite having lodged a second complaint on 31st March, 2019, the police are yet to file an FIR.

Considering the gravaity of the matter, it is requested that immediate action be taken in the matter as per relevant provisions of the law and the commision be apprised about action taken in the matter at an early date by E-mail / Fax .

কী ভাবছেন ? আচ্ছা আমিই বলে দিই। প্রোটোকল মেনে লেখা এমন প্রথা মাফিক সুয়ো মোটো ? এসব যে কত হাজার গণ্ডা লেখা হয়েছে এবং কত লক্ষ কোটি বার লেখা হবে তার কোনো হিসেব আছে ? আরে দাদা কমিশনের কাজটাই তো তাই ! এসব কি কম হয়েছে ? কী লাভ হয় বলুন তো ? খসা তো দূরের কথা আজ অবধি একটা পাতাও নড়েছে ? সুয়ো মোটোর ডোজ খেয়েই তো কত রাজ্যের ডিজি হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠল ! আইন শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ রাজ্যের অধিকার বুঝলেন মশাই ! এসব সুয়ো মোটোতে কিস্যু হবেনা। একটা চিড়ের দানাও ভিজবেনা ! সে জাতীয় মহিলা কমিশনই হোক আর বিজাতীয় ! হা হা হা !

সে আমিও জানি মশাই। সুয়ো মোটোটা বড় কথা নয়। এমন গণ্ডায় গণ্ডায় হয়েছে। হাসি থামিয়ে একটু বিষয়টা ভাবুন ! ইয়ে মানে যে ব্যাপারে রাজ্য ডিজিপির মনোযোগ আকর্ষণ করা হয়েছে। religious conversion ! মানে ধর্মান্তর ! দুটি মেয়েকে হিন্দু থেকে মুসলমান বানিয়ে বলপূর্বক বিয়ে দেওয়া ! কাঠগড়ায় কারা ? দুটি মুসলমান যুবক ! ধর্মান্তর এবং বিয়েতে রাজি না হলে অ্যাসিড দিয়ে মুখ পুড়িয়ে দেওয়া হবে, মা বাবাকে হত্যা করা হবে ! হ্যাঁ, সংবাদসূত্র সহ সমগ্র ঘটনাটি বিশদে উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হননি।রাজ্য পুলিশকে স্পষ্ট এবং কড়া ভাষায় উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এবার একটু ভেবে দেখুন তো ! হিন্দুর মেয়েকে মুসলমান বানিয়ে বলপূর্বক বিয়ে করার ঘটনা কি এদেশে এই প্রথম ? আলবাত নয় ‍ ভুরি ভুরি দৃষ্টান্ত আছে। এবার নিশ্চয় বুঝেছেন ! হ্যাঁ জাতীয় মহিলা কমিশন রাশি রাশি সুয়ো মোটো করলেও religious conversion কে কেন্দ্র করে এটিই প্রথম ! আমার অন্তত জানা নেই এর আগে এই জাতীয় কোনো উদাহরণ আছে কিনা। নারীদের উপর ঘটে চলা চরম অমানবিক নির্যাতন যেমন খুন, ধর্ষণ, অ্যাসিড হামলা ইত্যাদি নিয়ে রাশি রাশি সুয়ো মোটো হলেও হিন্দু নারীকে মুসলমান বানিয়ে বলপূর্বক বিবাহ করা অর্থাৎ লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে মহিলা কমিশন এই প্রথম কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করল। ১৯৪৭ এর ১৫ই অগাস্টের পর আপনার আমার প্রিয় জন্মভূমিতে এই প্রথম একটি অঘটন ! কত শত হিন্দু নারীর আর্তনাদ,অশ্রু এবং রক্তক্ষরণকে ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে দেওয়া হয়েছে। কত মায়ের হাহাকার, কত পিতার দীর্ঘশ্বাসকে পরিকল্পনা মাফিক গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই ! লাভ জিহাদ নামে যে একটি বস্তু স্বাধীন ভারতেও বর্তমান; পপুলেশন জিহাদের [জন্ম নিয়ন্ত্রণ না করে মুসলমান জনসংখ্যা বর্ধিত করা এবং এই প্রক্রিয়ায় জমি দখল তথা ভোট সর্বস্ব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করা] পাশাপাশি এই লাভ জিহাদও গোপনে, প্রকাশ্যে অহরহ ঘটে চলেছে জাতীয় মহিলা কমিশনের সুয়ো মোটো নোটিসটি তাতেই শিলমোহর লাগিয়ে দিয়েছে। হ্যাঁ এই প্রথম ! ২রা এপ্রিল, ২০১৯ তারিখটির গুরুত্ব এবং মহিমা এখানেই। যাকে এক কথায় যুগান্তকারী বলা যায়।

কিন্তু কেন এমন হল ? আপনার আমার জন্মভূমিটি তো সার্বভৌম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবেই পরিচিত ! শুধু কি তাই ? ধর্মনিরপেক্ষও বটে। কত গর্বের ব্যাপার বলুন তো ! জরুরি অবস্থার সুযোগ নিয়ে এদেশের সংবিধানে “সমাজতান্ত্রিক” এবং “ধর্মনিরপেক্ষ” এই দুটি গালভরা শব্দ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। ১৯৭৬ সালের এই ৪২তম সংশোধনীটি কেবল বিতর্কিতই নয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতও বটে। স্কুল পাঠ্যের ইতিহাসে কখনও এর উল্লেখ করা হয়না। সংবিধানের প্রস্তাবনা হিসেবে যা উদ্ধৃত করা হয় রীতিমত আপত্তিকর এবং সন্দেহজনক।একবারও উচ্চারণ করা হয় স্বয়ং আম্বেদকর এর বিরোধিতা করেছিলেন ? ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে কে টি শাহ-র প্রস্তাবেও “সেকুলার এণ্ড ফেডারাল সোশাইটি—এই শব্দদুটির কথা ওঠে। কিন্তু আম্বেদকর তা খারিজ করে দেন। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেন কাল পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে তারা কি ধরণের সংবিধান চায়। এসব উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া অন্যায়। হ্যাঁ মামনীয় আম্বেদকরের বিরোধিতার কারণেই সেই সময় সেকুলার শব্দটি ঢোকানো যায়নি।[ Constitution Assembly of India, volume VII এ এর বিশদ আলোচনা আছে] তা কার আমলে ঢোকানো হল ? শ্রীমতি গান্ধী প্রবর্তিত জরুরি অবস্থার সময়। হ্যাঁ ঠিক শুনেছেন। জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে চিল চিৎকার জুড়ে দেওয়া প্রগতিশীল বাম দলগুলি কিন্তু এই অগণতান্ত্রিক এবং বিতর্কিত সংশোধনের বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করেনা। এমার্জেন্সির “কালা দিন, কালা কানুন” এর বিরুদ্ধে লক্ষ কোটি বিষোদগার হলেও, গুঁজে দেওয়া “ধর্মনিরপেক্ষ” শব্দটি ডালে, ঝোলে, অম্বলে বেশ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেন। আসুন ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনাটিতে আর একবার চোখ রাখা যাক।
“ আমরা ভারতের জনগণ ভারতকে সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্ররূপে গড়ে তুলতে এবং তার সকল নাগরিকই যাতে সামাজিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার, চিন্তা মত প্রকাশ, বিশ্বাস ধর্ম এবং উপাসনার স্বাধীনতা, সামাজিক প্রতিষ্ঠা অর্জন ও সুযোগের সমতা প্রতিষ্ঠা এবং তাদের সকলের মধ্যে যাতে ভ্রাতৃত্বের ভাব গড়ে ওঠে তার জন্য সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে শপথ গ্রহণ করে আমাদের গণপরিষদে আজ, ১৯৪৯ সালের ২৬ শে নভেম্বর এতদ্বারা এই সংবিধান গ্রহন,বিধিবদ্ধ এবং নিজেদের অর্পণ করছি।”

কী ভাবছেন ? ভানুমতির খেল মনে হচ্ছে না ? টাইম ট্র্যাভেলের এমন হাতে গরম নমুনা বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে আর আছে ! ঠিক শুনেছেন –বিশুদ্ধ টাইম ট্র্যাভেল ! Time travel in Nehru Gandhi style ! নইলে ১৯৭৬ সালে ঢোকানো “সমাজতান্ত্রিক” এবং “ধর্মনিরপেক্ষ” এই দুটি শব্দ কিভাবে ১৯৪৬ সালের ২৬ নভেম্বরের প্রস্তাবনায় গ্যাঁট হয়ে বসে পড়ল ? তিরিশ বছরের টাইম ট্র্যাভেল ! মুখের কথা ? বেশ সে না হয় হল ! টাইম ট্র্যাভেল মানেই মন্দ হবে এমন ভাবা অন্যায়। ইতিবাচক দিকও থাকতে পারে। কিন্তু সেটি বেমালুম গোপন করে যাওয়া হল কেন ? ইতিহাসের ছাত্রছাত্রীদের কেন বলা হলনা এই দুটি শব্দ ১৯৪৬ সালের আদি প্রস্তাবনায় আদৌ অন্তর্ভূক্ত ছিলনা ? ১৯৭৬ সালে জরুরি অবস্থা চলাকালীন সমাজতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ শব্দদুটি ঢোকানো হয় ! সত্যি কথাটা বললে কোন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেত ?

[চলবে]