নোটা মুনি সর্বজ্ঞানী

0

Last Updated on

দেবাশিস লাহা

বাঙ্গালা ভাষায় সর্বজনবিদিত একটি প্রবাদ আছে — নানা মুনির নানা মত। বাঙ্গালা হইলেও ইহা যে আসমুদ্রহিমাচল ভারতবর্ষের চিত্রটিই চার অক্ষরে অংকন করিয়াছে, সে ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নাই। ফলতঃ বেদ উপনিষদের যুগ পশ্চাতে ফেলিয়া কলি যুগে পদার্পন করিলেও ইহার তুমুল শক্তি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করিতেছি। এই হাড়ে হাড়ে উপলব্ধিটি অদূর ভবিষ্যতে যে গাঁ—, গাঁ– প্রবেশ করিয়া স্বনির্মিত বংশ দণ্ডের রূপ পরিগ্রহ করিবে সে বিষয়েও সন্দেহ নাই। অতীতের মহা পণ্ডিত মহা মুনিরা কেহ সাংখ্য, কেহ যোগ, কেহ ন্যায়, কেহ বৈশেষিক, কেহ বা চার্বাকবাদী হইয়া মহা জ্ঞানের জলধিতে তুমুল সন্তরণ করিয়াছেন। পরবর্তীকালে এই সকল জ্ঞানী গুণী মনুষ্যকুল কেহ সগুন, কেহ নির্গুণ ব্রম্ম হইয়া নিজ নিজ জ্ঞানের ভাণ্ডার ত্রিগুণ, চতুর্গুণ, পঞ্চগুণ হারে বাড়াইয়া লইয়াছেন। ইহাদের জ্ঞান গরিমা এমনই বৃদ্ধি পাইয়াছে যে সমগ্র বিশ্ব মুগ্ধ নয়নে অবলোকন করিয়াছে আর ভাবিয়াছে ভারতবর্ষ নামক ভূখন্ডটি প্রকৃতপক্ষেই মহা জ্ঞান, মহা উপলব্ধি, জীবন বীক্ষার লীলাভূমি। এইরূপ প্রশংসা এবং খ্যাতি অর্জন করিয়াও এই সকল মহা মুনিদিগের মহা লীলা খেলায় এক মুহূর্তের নিমিত্তও ছেদ পরে নাই। যুগে যুগে আকার বদলাইলেও প্রকারে, প্রকরণে এই মুনিরা অভিন্ন হইয়াই বিরাজমান থাকিয়াছেন। বেদ উপনিষদ, সগুণ,নির্গুণের যুগ অতিক্রম করিয়া এই সকল মুনি দিকে দিকে ছড়াইয়া পড়িতে লাগিলেন। ইহাদের সুবিমল প্রভাবে মুনির সংখ্যা বর্ধিত হইতে লাগিল। মুনি যত বাড়িল, মতও তত বাড়িল। ফলতঃ মোহম্মদ ঘোরি যখন পৃথ্বীরাজ চৌহানকে আক্রমণ করিল, জয়চাঁদ মুনি ভিন্ন মত পোষণ করিলেন এবং গগন অভিমুখে দৃষ্টিপাত করিয়া ভাবিলেন কী বিচিত্র এই সৃষ্টির লীলা খেলা। প্রথমবার জয়লাভ করিলেও দ্বিতীয় তরাইনের যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ মুনি পরাজিত হইলেন। জয়চাঁদ মুনি বলিলেন দ্যাখ কেমন লাগে! ইহাতে বিস্মিত হইবার কোনো কারণ নাই। কারণ ইহাই স্বাভাবিক। ওই যে নানা মুনির নানা মত! আনন্দ পাল এবং জয়পাল মুনি যখন সুলতান মামুদের বিরুদ্ধে প্রাণপণ লড়াই করিলেন, অবশিষ্ট মুনি সকল ইতিউতি দণ্ডায়মান হইয়া বিমল বিনোদন গ্রহণ করিলেন।

সময় অগ্রবর্তী হইল। মহা মুনিদিগের জ্ঞানচর্চা ক্রমশ বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। হাইটেক যুগে প্রবেশ করিলেও নানা মুনির নানা মত প্রবাদটি সহস্র গুণ শক্তিশালী হইয়া মগজে মগজে ফুঁ প্রদান করিতে লাগিল। বেদ উপনিষদ মুনির উত্তরাধিকারী এই সকল মহা জ্ঞানীরা কেহ কংগ্রেস, কেহ সিপিএম, কেহ তৃণমূল, কেহ বিজেপি হইয়া উঠিল। ইহাদের পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা এবং তর্ক বিতর্কে গগণমণ্ডল মথিত, উদ্ভাসিত, উল্লসিত এবং পরিশেষে বিচলিত হইল। কিন্তু জ্ঞানচর্চায় রতি মাত্র ছেদ পড়িলনা। মহা জ্ঞানের মহান লীলাভূমিতে নোটা মুনির আবির্ভাব ঘটিল। ইহারা এতই মহা জ্ঞানী, এতই মহা জ্ঞানী, এতই মহা জ্ঞানী যে আপনা ব্যতীত কাহাকেও জ্ঞানী বলিয়া মনে করিলনা। ইহাদের শিক্ষা দীক্ষা এইরূপ উচ্চমার্গের যে পশ্চাতদেশের বাঁশটিকেও প্রিয়তমার কনুই ভাবিয়া লন।

বাঙ্গালা ভাষায় সর্বজনবিদিত একটি প্রবাদ আছে — নানা মুনির নানা মত। বাঙ্গালা হইলেও ইহা যে আসমুদ্রহিমাচল ভারতবর্ষের চিত্রটিই চার অক্ষরে অংকন করিয়াছে, সে ব্যাপারে বিন্দুমাত্র সন্দেহের অবকাশ নাই। ফলতঃ বেদ উপনিষদের যুগ পশ্চাতে ফেলিয়া কলি যুগে পদার্পন করিলেও ইহার তুমুল শক্তি হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করিতেছি। এই হাড়ে হাড়ে উপলব্ধিটি অদূর ভবিষ্যতে যে গাঁ—, গাঁ– প্রবেশ করিয়া স্বনির্মিত বংশ দণ্ডের রূপ পরিগ্রহ করিবে সে বিষয়েও সন্দেহ নাই। অতীতের মহা পণ্ডিত মহা মুনিরা কেহ সাংখ্য, কেহ যোগ, কেহ ন্যায়, কেহ বৈশেষিক, কেহ বা চার্বাকবাদী হইয়া মহা জ্ঞানের জলধিতে তুমুল সন্তরণ করিয়াছেন। পরবর্তীকালে এই সকল জ্ঞানী গুণী মনুষ্যকুল কেহ সগুন, কেহ নির্গুণ ব্রম্ম হইয়া নিজ নিজ জ্ঞানের ভাণ্ডার ত্রিগুণ, চতুর্গুণ, পঞ্চগুণ হারে বাড়াইয়া লইয়াছেন। ইহাদের জ্ঞান গরিমা এমনই বৃদ্ধি পাইয়াছে যে সমগ্র বিশ্ব মুগ্ধ নয়নে অবলোকন করিয়াছে আর ভাবিয়াছে ভারতবর্ষ নামক ভূখন্ডটি প্রকৃতপক্ষেই মহা জ্ঞান, মহা উপলব্ধি, জীবন বীক্ষার লীলাভূমি। এইরূপ প্রশংসা এবং খ্যাতি অর্জন করিয়াও এই সকল মহা মুনিদিগের মহা লীলা খেলায় এক মুহূর্তের নিমিত্তও ছেদ পরে নাই। যুগে যুগে আকার বদলাইলেও প্রকারে, প্রকরণে এই মুনিরা অভিন্ন হইয়াই বিরাজমান থাকিয়াছেন। বেদ উপনিষদ, সগুণ,নির্গুণের যুগ অতিক্রম করিয়া এই সকল মুনি দিকে দিকে ছড়াইয়া পড়িতে লাগিলেন। ইহাদের সুবিমল প্রভাবে মুনির সংখ্যা বর্ধিত হইতে লাগিল। মুনি যত বাড়িল, মতও তত বাড়িল। ফলতঃ মোহম্মদ ঘোরি যখন পৃথ্বীরাজ চৌহানকে আক্রমণ করিল, জয়চাঁদ মুনি ভিন্ন মত পোষণ করিলেন এবং গগন অভিমুখে দৃষ্টিপাত করিয়া ভাবিলেন কী বিচিত্র এই সৃষ্টির লীলা খেলা। প্রথমবার জয়লাভ করিলেও দ্বিতীয় তরাইনের যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ মুনি পরাজিত হইলেন। জয়চাঁদ মুনি বলিলেন দ্যাখ কেমন লাগে! ইহাতে বিস্মিত হইবার কোনো কারণ নাই। কারণ ইহাই স্বাভাবিক। ওই যে নানা মুনির নানা মত! আনন্দ পাল এবং জয়পাল মুনি যখন সুলতান মামুদের বিরুদ্ধে প্রাণপণ লড়াই করিলেন, অবশিষ্ট মুনি সকল ইতিউতি দণ্ডায়মান হইয়া বিমল বিনোদন গ্রহণ করিলেন।

সময় অগ্রবর্তী হইল। মহা মুনিদিগের জ্ঞানচর্চা ক্রমশ বৃদ্ধি পাইতে লাগিল। হাইটেক যুগে প্রবেশ করিলেও নানা মুনির নানা মত প্রবাদটি সহস্র গুণ শক্তিশালী হইয়া মগজে মগজে ফুঁ প্রদান করিতে লাগিল। বেদ উপনিষদ মুনির উত্তরাধিকারী এই সকল মহা জ্ঞানীরা কেহ কংগ্রেস, কেহ সিপিএম, কেহ তৃণমূল, কেহ বিজেপি হইয়া উঠিল। ইহাদের পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনা এবং তর্ক বিতর্কে গগণমণ্ডল মথিত, উদ্ভাসিত, উল্লসিত এবং পরিশেষে বিচলিত হইল। কিন্তু জ্ঞানচর্চায় রতি মাত্র ছেদ পড়িলনা। মহা জ্ঞানের মহান লীলাভূমিতে নোটা মুনির আবির্ভাব ঘটিল। ইহারা এতই মহা জ্ঞানী, এতই মহা জ্ঞানী, এতই মহা জ্ঞানী যে আপনা ব্যতীত কাহাকেও জ্ঞানী বলিয়া মনে করিলনা। ইহাদের শিক্ষা দীক্ষা এইরূপ উচ্চমার্গের যে পশ্চাতদেশের বাঁশটিকেও প্রিয়তমার কনুই ভাবিয়া লন।

নানা মুনির নানা মত — এই প্রবাদটির বিপরীতে নানা মোল্লার নানা মত — এই জাতীয় কোনো প্রবাদ জন্মগ্রহণ করে নাই। ফলতঃ মাত্র সাতাশ ভাগ হইয়াও উহারা পূর্ববর্তী সকল সরকার নির্ধারণ এবং নিয়ন্ত্রণ করিয়াছে। পরবর্তীতেও ইহা অব্যাহত থাকিবে সে বিষয়েও কোনো সন্দেহ নাই। ইহাতে যে মুনিদিগের বিশেষ চিত্ত বিকার ঘটিবে না, বলাই বাহুল্য। কারণ পলায়নে পারদর্শী এইসকল মহা মুনিরা ভিটেমাটি বর্জন করিলেও মহা মূল্যবান গামছাটিকে কদাপি পরিত্যাগ করেননা। কারণ ইহার ত্রি বিধ উপকারিতা– ১) ইহাতে উপবেশন করিয়া মহা জ্ঞানের ধ্যান করা সম্ভব ২) ইহা পরিধান করিয়া শ্যামা সঙ্গীত গাহিবার মজাই আলাদা ৩) ৩) জরুরি ভিত্তিতে অর্থাৎ আপদ কালীন পলায়নে ইহাকে অতি সহজেই কোমরে জড়াইয়া লওয়া যায় এবং ফিনফিনে সুতার এপার হইতে হিসুক্ষরা লিঙ্গটিও বহুত্ববাদী শিশু হইয়া ওঠে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here