মে দিবস এবং মৌমাছি …

0

Last Updated on

মে দিবসের ইতিহাস নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। সবাই কম বেশি জানেন। তবে এই দিনটির গুরুত্ব এবং শিক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। আট ঘন্টা কাজের দাবীতে যে লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়েছিল, তা নিছক সংঘাত বা সংঘর্ষের কথা বলে না, মালিক এবং শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে সমন্বয় এবং বোঝাপড়ার প্রয়োজনীয়তা কতটা তীব্র তারও ইঙ্গিত দেয়। মালিক এবং শ্রমিক শ্রেণি মানেই রক্তক্ষয়ী Revenge Tragedy নয়, মিথোজীবিতার চতুর্দশপদীও হতে পারে। মালিকের যেমন শ্রমিক দরকার, শ্রমিকেরও মালিক। একে অপরকে বাদ দিলেই অস্তিত্বের সংকট। আর এই সংঘাতের পরিণাম কত ভয়ংকর হতে পারে, বাঙালী সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। শ্রেণিহীন সমাজের নামে যে ব্যবস্থার জন্ম হয়েছিল, সে সোভিয়েত ইউনিয়নই হোক, কিউবাই হোক সেখানেও মালিক আছে। সে কখনও স্তালিন, কখনও কাস্ত্রো। তাঁদের ঘিরে তৈরি হওয়া বৃত্তটির কথা না হয় বাদই দিলাম। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী এটি অনেকে আগেই উপলব্ধি করেছে। তাই মার্ক্স -এর ভবিষৎবাণীও ব্যর্থ হয়েছে। শিল্পবিপ্লবের স্বাদ পাওয়া ব্রিটেনেই নাকি প্রথম সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব হবে। অদ্যাবধি সেখানে কোনো বিপ্লবের গন্ধ নেই, অদূর কেন সুদূর ভবিষ্যতেও তার সম্ভাবনা নেই। গুরুর সম্মান বাঁচানোর জন্য অনেক তাত্ত্বিক অবশ্য ময়দানে নেমেছিলেন। কাঁঠালের আমসত্ত্ব জাতীয় অনেক আর্থসামাজিক আঁতলামো আমরা দেখেছি, পেয়েছি। এত পুঁথি সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, পণ্ডিতেও পড়ে শেষ করতে পারবেন না। তার চেয়ে বরং কানে কানে একটা কথা বলি। মানুষের চেয়ে মৌমাছিরা অনেক বুদ্ধিমান। কেন জানেন? ওদেরও রাণী থাকে শ্রমিকও থাকে। Drone নামের অলস মৌমাছিটির কথা কে না জানে! তবু দেখুন কী অনির্বাণ ভালবাসা দিয়ে ওরা একটার পর একটা মৌচাক বানিয়ে যায়। কোন সংঘাত নেই, তাই লড়াইও নেই। শ্রেণিহীন মৌচাক গঠনের লক্ষ্যে ওরা এক বিন্দুও রক্ত ঝরায় না। কেন জানেন? কম্যুনিস্ট ম্যানিফেস্টো লেখার অনেক আগেই ওরা বাঁচার মন্ত্রটা শিখে ফেলেছে। মার্ক্স -এর কাছে তো অনেক শিখলেন, আসুন না এবার একটু মৌমাছির কাছেও শিখি!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here