হিন্দু জাতীয়তাবাদ কি হিটলার হবে?

1

Last Updated on

দেবাশিস লাহা

কোনো অঘটনই ঘটেনি। প্রত্যাশা, পরিসংখ্যান, পূর্বানুমান সব কিছুকে সঠিক প্রমাণ করেই গেরুয়া দলটি অর্থাৎ ভারতীয় জনতা পার্টি অপরিসীম শক্তি নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে এসেছে। এমনটাই যে ঘটবে বা ঘটতে চলেছে বুঝে নেওয়ার জন্য কোনো এক্সিট পোলের দরকার ছিলনা। সমগ্র বিশ্ব জুড়ে যে দক্ষিণপন্থী ভাষ্যের উত্থান পরিলক্ষিত হচ্ছে, ভারতে যে তার অন্যথা ঘটবেনা, বরং আরও প্রবল এবং তীব্র প্রতিফলন দেখা যাবে বিন্দুমাত্র রাজনৈতিক প্রজ্ঞা থাকলেই হৃদয়ঙ্গম করা সম্ভব। কিন্তু এই আলোচনার বিষয় এটি নয়। বিজেপি নামক রাজনৈতিক দলটির ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠা একরকম অনিবার্যই ছিল। সদ্য সমাপ্ত সংসদীয় নির্বাচনের ফলাফলে যাকে “অভিনব” এবং “অভূতপূর্ব” বলে দাবি করা হচ্ছে তা হল প্রায় অর্ধ শতাব্দীর বাম শাসিত পশ্চিম বঙ্গে [ বিভিন্ন আলোচনায় বার বার জানিয়েছি বামপন্থী দলগুলি অর্থাৎ সিপিএম, সি পি আই ইত্যাদির সঙ্গে বর্তমান শাসক দলটির মূলগত কোনো পার্থক্যই নেই। রঙ ভিন্ন হলেও এটিকে আমি বামপন্থী বলেই মনে করি। বরং একটু বেশি পরিমাণে] ভারতীয় জনতার পার্টির উত্থান । এ কী কম বিস্ময়ের কথা ! বিশেষ করে “জ্ঞানী, গুণী, প্রজ্ঞাবান” কমরেডকুল তো কূল কিনারাই হারিয়ে ফেলেছেন ! বিজেপির মত একটি “ঘৃণিত, দাঙ্গাবাজ, সাম্প্রদায়িক” দল “শিক্ষিত, উদার, ধর্মনিরপেক্ষ” বাঙালির কাছে কিভাবে এমন গ্রহণীয় হতে পারে ! অবিশ্বাস্য ! “সিমপ্লি নেওয়া যাচ্ছেনা ভাই !” যে বাংলা এবং বাঙালিকে দেখে গোপাল কৃষ্ণ গোখেলের মত প্রজ্ঞাবান মানুষ বলে উঠেছিলেন—What Bengal thinks today, India thinks tomorrow . তার এই পরিণতি ? হায় হায় হায় ! এ লজ্জা রাখি কোথায় ! রাক্ষস খোক্কশ ভূত পিশাচ সব মেনে নেওয়া যায়, তাই বলে বিজেপি ! ছি ছি ছি !
সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট থেকে শুরু করে মেইনস্ট্রীম মিডিয়া সর্বত্রই এই জাতীয় মন্তব্য, প্রতিক্রিয়া তথা পর্যবেক্ষণের ঝড় উঠেছে। কারা এমন বলছেন, ভাবছেন ? কেন বামপন্থীরা, আরও ভাল করে বললে মার্ক্সবাদী বামপন্থীরা, আরও ভাল করে সি পি এম, সি পি আই, এস উ সি আই ইত্যাদি সহ কাঁদি কাঁদি নকশালপন্থী দল ! [যদি কে বা কারা খাঁটি মার্ক্সবাদী এ নিয়ে কোনো মীমাংসায় পৌঁছানো যায়নি। যেমন কে বা কারা সহি মুসলমান সে ব্যাপারেও তীব্র মতভেদ বিদ্যমান। যে কোনো একদেশদর্শী মতবাদের যা পরিণতি !]
প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক গেরুয়া দলটির “আকস্মিক” উত্থানে এই সব সব “জ্ঞানী, গুণী, প্রজ্ঞাবান” মানুষ কি বলছেন, কি ভাবছেন ! তবে এই আলোচনা পর্যবেক্ষণ বা পর্যালোচনা এই রাজ্যটির ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ রাখব। দেশের অন্য যে কোনো প্রান্তের চেয়ে এই রাজ্যটিতেই [এবং অবশ্যই কেরালা] গেরুয়া দলটির প্রতি ঘৃণা, বিদ্বেষ এবং বিতৃষ্ণা বহুগুণ বেশি। কারণটি অবশ্যই সুদীর্ঘ বাম শাসন। যে অঞ্চলে যত বাম আধিপত্য, সেখানেই জাতীয়তাবাদ, আরও ভাল করে বললে হিন্দু জাতীয়তাবাদের প্রতি ঘৃণার মাত্রা ততই বেশি। কারণ বাম দলগুলির প্রধান উদ্দেশ্যই হল হিন্দু সংস্কৃতি এবং আইডেন্টিটিকে ধ্বংস করে জাতীয়তাবাদের শেকড়টিকে নির্মূল করে দেওয়া। বলাই বাহুল্য এই মহান কর্মযজ্ঞে তাদের সব চেয়ে বড় দোসর জিহাদি শক্তি। এই রাজ্যটিতে সুদীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে এই প্রক্রিয়াটিই চলেছে। নামে ভিন্ন হলেও পরবর্তী শাসকদলটিও এই একই প্রক্রিয়া আরও তুমুল বিক্রমে বলবত রেখেছে। আর সেই কারণেই এই উত্থানকে আকস্মিক বলে অভিহিত করা হচ্ছে। যদিও বুদ্ধিমান মানুষের কাছে এই ফলটিই প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু জন বিচ্ছিন্ন বাম দলগুলি এই অপ্রত্যাশিত ফলাফলে নাকানি চোবানি খাচ্ছে। কিন্তু এঁদের “প্রজ্ঞাবান পর্যবেক্ষণের” ভাণ্ডারটি ক্রমশ উপচে পড়ছে। এ রাজ্যে বিজেপি এলে কি কি ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ তথা ভবিষ্যৎবাণী একেবারে আঙুলের ডগায়। তুমুল শক্তিশালী হয়ে ওঠা গেরুয়া দলটি সারা দেশে কী জাতীয় কার্যকলাপ ঘটাতে পারে তারও একটি সুস্পষ্ট তালিকা এঁদের মুখে মুখে, কলমে কলমে যুগপৎ খিস্তি এবং মন্ত্রোচ্চারণের মিশ্রণ ঘটিয়ে চলেছে।
১] গেরুয়া দলটির উত্থান মানে সংবিধান এবং গণতন্ত্র বিপন্ন হওয়া। উগ্র হিন্দুত্ববাদী, উগ্র জাতীয়তাবাদী এই দলটি হিটলারের নাজি পার্টির সঙ্গে তুলনীয়। উগ্র দেশপ্রমী, জাতিবিদ্বেষী হিটলার যেমন ইহুদি মুক্ত ইউরোপের স্বপ্ন দেখেছিলেন। জার্মান, অষ্ট্রিয়া, পোল্যাণ্ড, চেকোশ্লোভাকিয়া ইত্যাদির দেশের লক্ষ লক্ষ ইহুদিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলেন। গেরুয়া দলটিও এই একই পথের পথিক। ইহুদিদের পরিবর্তে তাদের শিকার হবেন মুসলমানেরা। ইতিমধেই তার নমুনা পাওয়া গেছে। গোমাংস খাওয়ার অপরাধে পহেলু খানের হত্যা অনাগত ভবিষ্যতের অশনি সংকেত।

২] উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা মানেই মনুবাদী রীতিনীতি, কুপ্রথার প্রত্যাবর্তন। অর্থাৎ সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, নারী শিক্ষা বন্ধ করে শুধু ঘরের কাজ কর্মে বাধ্য করা ইত্যাদির অনুশীলন। শুধু তাই নয় কমরেডকুলের দূরদৃষ্টি এতটাই তীব্র যে অম্লানবদলে জানিয়ে দিচ্ছেন বাঙালির আর মাছ মাংস খাওয়া বন্ধ হল বলে ! গোবলয়ের মত এখানেও নিরামিষ খাদ্য প্রচলিত হবে। আমিষভোজীদের নিরামিষ গ্রহণে বাধ্য করা হবে।

৩] গেরুয়া দলের দাপটে বাঙালি তার ভাষা সংস্কৃতি সব হারিয়ে ফেলবে। ক্ষমতায় আসা মাত্র এই দলটি বলপূর্বক হিন্দি ভাষা চালিয়ে দেবে। সাহিত্য, শিল্প সব ভোগে যাবে।

মূলত এই তিনটি “আশংকাকেই” কুযুক্তির প্যাকেজে ভরে মাঠে ঘাটে, কাগজে মগজে, প্রিন্টে, নেটে সর্বত্রই পরিবেশন করা হচ্ছে। এই আলোচনায় কেবল প্রথম “আশংকাটির” উপরেই কিঞ্চিৎ আলোকপাত করব। বাকি বিষয়গুলিও হয়ত পর্যায়ক্রমে আসবে। ভিন্ন আলোচনায়।

প্রথম প্রোপ্যাগান্ডাটির কুযুক্তিগুলি খুঁজে বের করতে চাইলে সর্বাগ্রে হিটলারের নাজি পার্টির সঙ্গে এই গেরুয়া দলটি অর্থাৎ বিজেপির কি কি সাদৃশ্য, অথবা আদৌ আছে কিনা সেবিষয়ে আলোকপাত করতে হবে। নাজি [কেউ কেউ “নাৎসিও” লেখেন] পার্টির সঙ্গে বিজেপি নামক রাজনৈতিক দলটির একটি মাত্র সাদৃশ্য। উভয়েই দক্ষিণপন্থী জাতীয়তাবাদী দল এবং উভয়েই গণতান্ত্রিক পন্থাতেই ক্ষমতায় এসেছিল। এখানেই সাদৃশ্য শুরু, আর এখানেই শেষ। হিটলারের নাজি দলটির সঙ্গে গেরুয়া দলটির আর কোনো সাদৃশ্যই নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই ফেইক প্রোপাগাণ্ডাটিকে বুঝতে হলে নাজি দলটির উত্থান এবং কার্যপদ্ধতি নিয়ে কিঞ্চিৎ আলোচনা জরুরি। তবে উত্থানের পটভুমিটির সঙ্গে এদেশের কিছু সাদৃশ্য অবশ্যই আছে।

The National Socialist German Workers’ Party যা নাজি বা নাৎসি পার্টি বলেই কুখ্যাত । উগ্র দক্ষিণপন্থী এই রাজনৈতিক দলটির জন্ম ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ২৪ শে ফেব্রুয়ারি। ১৯৪৫ সালে ১০ অক্টোবর পর দলটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর এই দলটির জন্ম এবং প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু কেন ? উগ্র দক্ষিণপন্থী এই দলটি আচমকা এত জনপ্রিয় হয়ে উঠল কেন ? বাগ্মিতা ইংরেজিতে যাকে oratory/ gift of the gab বলা হয়ে থাকে, নাজি দলপতি হিটলারের তা যথেষ্টই ছিল। কিন্তু এটিই কি একমাত্র কারণ ? মোটেইনা। নিছক বাগ্মিতা সম্বল করে কোনো দল বা মতবাদকে প্রতিষ্ঠা করা যায়না । অনুকূল ক্ষেত্র বা আবহ চাই। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত জার্মানীতে এমনই একটি ক্ষেত্রের জন্ম হয়েছিল যা হিটলারের মত এক কালপুরুষের উত্থানে সহায়ক হয়ে উঠেছিল। কোন ক্ষেত্র ? পর্যবেক্ষকই বলুন অথবা বিশেষজ্ঞ নাজি পার্টির উত্থানের পটভূমি হিসেবে সবাই ভার্সাই চুক্তিটিকেই কম বেশি দায়ী করেন। সেখানে উল্লিখিত বেশ কিছু চরম অপমানজনক শর্ত জার্মানদের রক্তে আগুন লাগিয়ে দেয়। জন্মভূমির এই অপমানই তাঁদের jingoist বা উগ্র দেশপ্রেমিকে রূপান্তরিত করে। কেমন ছিল সেই চুক্তি ?

১৯১৮ সালের ১১ই নভেম্বর মিত্র শক্তি এবং জার্মানির মধ্যে সন্ধি স্থাপিত হয়। তারপর প্রায় ছ মাস ধরে আলোচনা চলে পরাজিত জার্মানির উপর কি কি শর্ত চাপানো যায়। অবশেষে ২৮শে জুন, ১৯১৯ সালে ভার্সাই শহরে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। এটিই ভার্সাই চুক্তি নামে কুখ্যাত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলির একটি –প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলে জার্মানির অভ্যন্তরে এবং অবশিষ্ট সমস্ত দেশে যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল তার দায় এবং ক্ষতিপূরণের ভার জার্মানিকেই নিতে হবে। Article 231 বলে কুখ্যাত এই ধারাটিকে যুদ্ধাপরাধের ধারা বলে চিহ্নিত করা হয়। সামগ্রিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে মোট ১৩২ বিলিয়ন মার্ক [জার্মান মুদ্রা] অর্থাৎ প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার ধার্য করা হয়। ক্ষতিপূরণের এই অংকটি এতই বিপুল এবং অযৌক্তিক ছিল যে জগত বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ কেইনস [যিনি প্যারিস শান্তি বৈঠকে ব্রিটিশ প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন] একে অত্যন্ত কঠোর [too harsh] বলে মন্তব্য করেন। হ্যাঁ চুক্তিটি এতটাই অমানবিক ছিল যে কেইনস একে “Carthaginian peace [অর্থাৎ পরাজিত দেশের উপর চরম অপমানজনক শর্ত চাপিয়ে দেওয়া। দ্বিতীয় পুনিক যুদ্ধে পরাজিত কার্থেজের উপর বিজয়ী রোম এক পাশবিক শান্তি চুক্তি চাপিয়ে দিয়েছিল। যেমন সমস্ত উপনিবেশ কেড়ে নেওয়া, সেনাবাহিনী গঠনের অধিকার হরণ, জরিমানা হিসেবে রোমকে নিয়মিত অর্থপ্রদান, আগাম অনুমতি ছাড়া যুদ্ধে অংশগ্রহণের অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়।এভাবেই কার্থেজেনিয়ান পিস বাগধারাটির জন্ম] বলে অভিহিত করেন। বিশ্ব বিখ্যাত এই অর্থনীতিবিদ তখনই জানান এই চুক্তিটি হিতে বিপরীত হয়ে উঠবে অর্থাৎ সুতীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেবে। তিনি counterproductive শব্দটি ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সতর্কও করে দেন। কিন্তু কেউ কর্ণপাত করেনি। যদিও বর্তমানে এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা এবং বিশ্লেষণের বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু যা ক্ষতি সে তো হয়েই গেল ! হিটলারের আবির্ভাব এবং ভয়াবহ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ। সংক্ষেপে দেখে নেওয়া যাক আর কি কি শর্ত চাপানো হয়েছিল। বিশেষ করে সামরিক ক্ষেত্রে। শর্তে বলা হল জার্মানি এক লক্ষের বেশি সেনা রাখতেই পারবেনা। সাতটি পদাতিক বাহিনী এবং তিনটি অশ্বারোহী। শুধু তাই নয়। সেনাবাহিনীকে ব্যাক আপ যেমন অস্ত্র শস্ত্র, প্রশিক্ষণ ইত্যাদির ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়। যেমন তিনটির বেশি সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রাখা যাবেনা। এমনকি সেনা জওয়ানরা কতদিন নিযুক্ত থাকবে তারও বিধি নিষেধ তৈরি হল। অর্থাৎ জার্মানি যাতে কোনভাবেই আর মাথা তুলে না দাঁড়াতে পারে, চিরকাল শুধু দাসত্বই করে যেতে পারে তার পাকাপোক্ত ব্যবস্থা হল। আর অস্ত্র শস্ত্র ? সামরিক সরঞ্জাম ? তারও গাইডলাইন ! যেমন জার্মানি অস্ত্র বিক্রি করতে পারবেনা।দরকার মত অস্ত্র নির্মাণও করতে পারবেনা। সাঁজোয়া গাড়ি, ট্যাংক, যুদ্ধ বিমান নির্মাণ নিষিদ্ধ হল। জার্মান নৌবাহিনীর জন্য মাত্র ছটি মান্ধাতা আমলের যুদ্ধ জাহাজ বরাদ্দ হল, একই সংখ্যায় লাইট ক্রুজার, বারোটি ডেস্ট্রয়ার এবং টর্পেডো বোট। এসব জাহাজের ওজন এবং দৈর্ঘ্যও বিজয়ী শক্তি নির্ধারণ করে দিয়েছিল। সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হল। নৌবাহিনীতে ১৫০০০ এর বেশি সেনা রাখা যাবেনা। অফিসারের সংখ্যা কোনমতেই ১৫০০ এর বেশি হওয়া চলবেনা। আটটি যুদ্ধ জাহাজ, আটটি লাইট ক্রুজার, বিয়াল্লিশটি ডেস্ট্রয়ার এবং পঞ্চাশটি টর্পেডো বোট কেড়ে নিয়ে নষ্ট ধ্বংস করে ফেলা হল। পরাজিত দেশটি কোনো বিমান বাহিনীই রাখতে পারবেনা এই মর্মে চুক্তি হল। শুধু তাই নয় অসামরিক বিমান নির্মাণেও শর্ত আরোপ করা হল। পরবর্তী ছ মাস বিমান নির্মাণ, এই সম্পর্কিত যন্ত্রাংশ আমদানি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হল।
কী ভাবছেন ? এখানেই শেষ ? এ তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র ! আর একটি নমুনা পড়েই নিন।যুদ্ধে তো মিত্র শক্তিরও ক্ষয় ক্ষতি হয়েছিল ! তার ক্ষতিপূরণ তো জার্মানিকেই করতে হবে ! সিদ্ধান্ত হল ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০ বিলিয়ন মার্ক অর্থাৎ ৫ বিলিয়ন ডলার মিত্র শক্তির হাতে তুলে দিতে হবে। খাঁটি সোনা, জাহাজ, পণ্য অথবা যে কোনো মাধ্যমে।

চরম অপমানজনক চুক্তিটির কিছু ঝলক তো দেখলেন। এবার আপনারাই বলুন দেশটির যখন এমন পরিস্থিতি, তখন কি সেখানে পবিত্র ধূপ ধুনোর চাষাবাদ হবে ? জন্মভূমির এই অগৌরবে কোন সংবেদনশীল নাগরিকটি টগবগ করে ফুটবেননা ? কেইনস যা বলেছিলেন ঠিক তাই ঘটল ! এমন অপমানই তো জাতীয়তাবাদের জন্ম দেয়। জার্মানিতে তাই ঘটল। এডলফ হিটলারের আবির্ভাব । যত অবমাননা, তত উগ্রতা। তাই যার জন্ম হল সেটা শাদামাটা Nationalism নয়, স্বাভাবিক patriotism ও নয়, উগ্র দেশপ্রেম। ইংরেজিতে যাকে Jingoism বলা হয়। নাজি পার্টি ক্ষমতায় এসে প্রথমেই কোন কাজটি করল বলুন তো? উঁহু ইহুদি নিধন নয়। ওটা অনেক পরে শুরু হয়েছিল। ১৯৩৩ সালের ৩০ শে জানুয়ারি হিটলার জার্মানির চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন। রীতিমত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। কারণ তাঁর নাজি দল নির্বাচনে দুর্দান্ত ফল করে। রাষ্ট্রপতি পল ভন হিণ্ডেনবার্গ তাঁকে নিয়োগ করেন। চ্যান্সেলর হয়ে তাঁর প্রথম নজর পড়ে কম্যুনিস্টদের উপর। কারণ এঁরা জাতীয়তাবাদের এক নম্বর শত্রু। ১৯১৭ সালে রাশিয়ার ক্ষমতা দখলের পর সমগ্র বিশ্বেই এই মার্ক্সবাদী কম্যুনিস্টদের দাপট এবং প্রভাব বেড়েই চলেছিল। জার্মানিও এর ব্যতিক্রম ছিলনা। হিটলার প্রথমে এঁদের চিহ্নিত করা শুরু করলেন। শুরু হল কম্যুনিস্ট নিধন যজ্ঞ। ভার্সাই চুক্তির আবহে দেশ এমনতেই টগবগ করে ফুটছিল, হিটলারের জ্বালাময়ী বক্তৃতা তাতে ঘৃতাহুতি দিল। জাতীয়তাবাদ বিরোধী, দেশবিরোধী শক্তিগুলি খড়কুটোর মত উড়ে গেল। কম্যুনিস্ট পার্টির অনেক সদস্য হিটলারের দলে নাম লেখালেন। যারা প্রতিরোধ করার প্রয়াস করলেন, পরিকল্পনা মাফিক হত্যা করা হল। মনে রাখতে হবে হিটলারের আক্রমণের প্রথম লক্ষ্য ছিল কম্যুনিস্ট এবং বড় বড় ব্যবসায়ী। পরের দিকে অর্থাৎ ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ এই চার পাঁচ বছর ধরে “Final solution of the Jewish Question “ এর রূপায়ন চলে। শুধু ইহুদি নয়, রোমা জিপসি, সমকামী, কম্যুনিস্ট সহ তাঁর যত অপছন্দের মানুষ, সবাইকে কত দ্রুত হত্যা করা যায়, সেই লক্ষ্যে Industrial scale এ নরহত্যা শুরু হয়। ইহুদিদের [প্রায় ৬০ লক্ষ প্রাণ] এই হত্যাযজ্ঞকেই হোলোকষ্ট [Holocaust] বলে অভিহিত করা হয়। তবে ইহুদি হত্যা করেছিলেন বলেই হিটলারের উপর বামপন্থীরা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। স্তালিন জমানায় কম ইহুদি মারা হয়নি। রাগের কারণ হল কম্যুনিস্ট নামক প্রাণিটিকে হিটলার দুচক্ষে দেখতে পারতেননা। কী তীব্র এলার্জি ছিল ভাষায় বোঝানো অসম্ভব। হ্যাঁ এই তীব্র কম্যুনিস্ট বিদ্বেষই হিটলারের প্রতি বিতৃষ্ণার মূল কারণ। কি করে বুঝবেন ? কারণ ইজরায়েল প্রতিষ্ঠার [১৯৪৮] দুই দশক অতিক্রান্ত হতে না হতেই দক্ষিণপন্থী এবং ইসলামিক পণ্ডিতকুল দাবি করতে থাকেন হিটলারের ইহুদি হত্যা অনেকটাই অতিরঞ্জনের ফসল। ঐতিহাসিক বাস্তবতা তেমন কিছুই নেই। গ্যাস চেম্বারের গল্পটিও নাকি বানানো। বলাই বাহুল্য এবিষয়ে মার্ক্সবাদীরা মুখে কুলুপ এঁটে থাকেন। বর্তমান বিশ্বে কেবল নয়, শুরু থেকেই তাঁরা ইসলামিস্টদের সহযোগী/ দোসর হিসেবেই দেখেন। এবিষয়ে বলশেভিক পার্টির অবস্থানটি জানলেই সব দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে যায়। প্যালেস্টাইন ইস্যুতে মার্ক্সবাদীরা প্রথম থেকেই আরব মুসলমানদের সমর্থন করে আসছে। হামাসের আত্মঘাতী বাহিনীকে গৌরবান্বিত করে মার্ক্সবাদী কবিরা অনেক কবিতাও লিখে ফেলেছেন। ঠিক যেমন কাশ্মীর ইস্যুতে এঁরা বোরহান মেহেদির মত জিহাদি মুজাহিদিনের পাশে থাকেন। কমরেড বলে গণ্য করেন। জেরুজালেমের গ্র্যাণ্ড মুফতি তো হিটলারকে এব্যাপারে সক্রিয় সহযোগিতাও করেছিলেন। নাজি একনায়কের সঙ্গে তাঁর একান্ত সাক্ষাৎকারের ছবি এবং প্রমাণ দুই আছে। বিষয়টি জলের মত পরিষ্কার। মুসলমান সম্প্রদায়টিকে সহযোগী মনে করলে ইহুদিদের পাশে থাকা অসম্ভব। আবার ইহুদিদের বন্ধু ভাবলে মুসলমানের মন জয় করা অসম্ভব। কারণ এঁরা একে অপরকে চিরশত্রু হিসেবেই দেখে। ইতিহাস তাই বলছে।

কিন্তু ইহুদিদের প্রতি হিটলারের এমন বিতৃষ্ণা জাগল কেন ? নাজিদের ইহুদি বিদ্বেষ কি হিন্দুত্ববাদীদের মুসলমান বিদ্বেষের সঙ্গে তুলনীয় ? অর্থাৎ যে কারণে জার্মানিতে ইহুদিদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব জন্মেছিল, ঠিক সেই কারণেই কি এদেশে মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষের সূত্রপাত ? একদম নয়। বিষয় এবং প্রেক্ষিত দুটিই ভিন্ন। অনেক ক্ষেত্রে বিপরীতও বটে। বিষয়টি বুঝতে হলে সমসাময়িক জার্মানিতে ইহুদি বিদ্বেষের কারণগুলি বুঝতে হবে। ইহুদিদের প্রতি এক ধরণের নেতিবাচক ধারণা আগে থেকেই ছিল। হিটলার সেটিকে কাজে লাগিয়েছিলেন মাত্র। [প্রসঙ্গত বলে রাখা ভাল হিটলার মোটেই ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেননা। ধর্মকে ব্যবহার করেছিলেন মাত্র।]
কম বেশি সবাই জানেন হিটলারের লক্ষ্য ছিল বিশুদ্ধ আর্য রক্তের [pure Aryan race] জার্মান জাতি গঠন করবেন। যদি আর্য বলে কোনো রেইস বা জাতিগোষ্ঠী নেই। আর্য একটি ভাষাগোষ্ঠী মাত্র। কিন্তু আলফ্রেড রোজেনবার্গ, আলফ্রেড বাউমলার, মার্টিন হাইডেগার সহ বেশ কিছু ইউরোপিয়ান পণ্ডিত, নৃতত্ত্ববিদ যে ভুলটি করেছিলেন, আর্যদের একটি নৃগোষ্ঠী হিসেবে দেখা, হিটলারও সেই ভুলটিকে ভিত্তি করে চরম নৃশংসতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁরা জার্মানদের নর্ডিক রেইস বলে চিহ্নিত করেন এবং ইহুদিদের একটি নিকৃষ্ট জাতিগোষ্ঠীর তকমা লাগিয়ে অপাংক্তেয় ঘোষণা করা হয়।
ব্যাপারটা কি এতই সোজা ? কয়েকজন তাত্ত্বিক, লেখক, দার্শনিক লিখে দিল ইহুদিরা নিকৃষ্ট জাত, আর অমনি লোকজন ইহুদিদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল ? দু হাত তুলে হিটলারকে সাহায্য করল ? রাশি রাশি ইহুদিকে ধরিয়ে দিল, নিজেরার উদ্যোগ নিয়ে দোকানপাট, বাড়ি ঘর সব পুড়িয়ে দিল ? ব্যাপারটা মোটেই তেমন নয়। ইহুদিদের প্রতি ইতিমধ্যেই বিরাজমান কিছু নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই নাজি পার্টির প্রোপাগাণ্ডা শক্তিশালী এবং গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল।
১] যীশু হত্যা। যদিও সমগ্র ইহুদি জাতিগোষ্ঠী যীশু হত্যার জন্য দায়ি ছিলনা। তেমনটা ভাবাও হাস্যকর। তবু কতিপয় ইহুদির অংশগ্রহণই সমগ্র জাতিগোষ্ঠীটির প্রতি চরম নেতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়। দ্বিতীয় আব্রাহামিক ধর্ম হিসেবে খ্রিশ্চিয়ানিটির সঙ্গে জুদাইজমের [ইহুদিদের ধর্ম] প্রতিযোগিতা জন্মলগ্ন থেকেই ছিল। প্রথমে যারা খ্রিস্টান হয়েছিলেন তাঁরা সবাই ইহুদিই ছিলেন। অর্থাৎ ধর্মান্তকরণের মাধ্যমে খ্রিস্টানরা তাঁদের লোকবল বাড়িয়ে চলেছিলেন। এমতাবস্থায় যীশু খ্রিস্টের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং পরিশেষে তাঁর মৃত্যুদণ্ড আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছিল। collective responsibilty অর্থাৎ সামুহিক দায়। ইহুদি মাত্রেই তার হাতে যীশুর রক্ত লেগে আছে। সুদীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও গোঁড়া খ্রিস্টানদের মধ্যে চরম ইহুদি বিদ্বেষ হিটলারের সময়ও বিদ্যমান ছিল।

২]ভয়ঙ্কর এই জাতিবৈরিতায় ঘৃতাহুতি দিল আরও একটি প্রচার। এমন এক প্রচার যা ধর্মান্ধ খ্রিস্টানেরা একেবারে লুফে নিল।জমি তৈরি থাকলে যা হয়। ঘৃণার জমিতেই তো হত্যার ফসল ফলে। কি সেই প্রচার যা মধ্যযুগীয় ইউরোপের আপামর খৃষ্টান বিশ্বাস করা শুরু করলেন ? ব্লাড লাইবেল ! তা এই Blood libel বস্তুটি কি ? দিকে দিকে ছড়িয়ে দেওয়া হল পাসওভার উৎসবের সময় ম্যাটজো নামক এক ধরণের রুটি বা কেক সেঁকার সময় ইহুদিরা নাকি খ্রিস্টান শিশুদের রক্ত ব্যবহার করে। সেই উদ্দেশ্য তারা বাচ্চাদের বলি দেয়। ওদের ধর্ম গ্রন্থে নাকি তাই লেখা আছে। ব্যাস আর কি চাই !ওদের মত শয়তান এভাবেই তো ওদের দেবতাকে তৃপ্ত করবে। এই পাসওভার ফেস্টিভ্যাল কি জানেন ? ইহুদিরা বিশ্বাস করে এইদিনই অত্যাচারের হাত থাকে মোজেস ওদের মুক্তি দিয়েছিল। পরবর্তী গবেষণায় প্রমাণিত এই ব্লাড লাইবেলের অস্তিত্ব বাস্তবে ছিলনা। দু একটি ঘটনা সামনে এলেও ষড়যন্ত্র না প্রকৃতই ইহুদিদের দ্বারা খ্রিস্টান শিশুহত্যা তা প্রমাণিত হয়নি। বলাই বাহুল্য যীশু হত্যার ফলে জাত বিদ্বেষই এই ধরণের গুজবকে শক্তিশালী করে তুলেছিল।
৩] শুধু তাই নয় সমসাময়িক বা ভূতপূর্ব কবি সাহিত্যিকদের রচনাতেও চরম ইহুদি বিদ্বেষ প্রকাশ পেয়েছিল। অনেক কবি সাহিত্যিক, নাট্যকার গভীর বিশ্বাস এবং আন্তরিকাতার সঙ্গে মদত দিয়ে গেছেন। তাঁদের শিল্পকর্মও ইহুদি বিদ্বেষে একেবারে টইটম্বুর। [এব্যাপারে আমাদের দেশের “বুদ্ধিজীবীকুল অবশ্য একেবারে বিপরীত। তাঁরা সব কিছু চোখে দেখলেও, নিজেদের আখের গোছানোর জন্য ইসলামী সন্ত্রাসটি দেখেও দেখেন না। এর ফলশ্রুতি যে কি ভয়াবহ হতে পারে আমরা দেখছি, ভবিষ্যতেও দেখতে হবে।] ইংরেজি, ফরাসী, জার্মান সব সাহিত্যেই ছড়িয়ে পড়েছে এই ইহুদি বিদ্বেষ, যা এন্টি সেমিটিজম [antisemitism] নামে পরিচিত। কে নেই এই তালিকায় ? চসার, শেক্সপিয়র, মার্লো, চার্লস ডিকেন্স, ডরোথি রিচার্ডসন, গ্রাহাম গ্রিন, টি এস এলিয়ট, ভার্জিনিয়া উলফ—তালিকাটি দীর্ঘ। এরা সবাই একটি চরিত্রকেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এঁকেছেন। স্টিরিওটাইপ যাকে বলে। যেন ইহুদি মাত্রেই স্বার্থপর, লোভী, নির্মম।মানবিকতার লেশ মাত্র নেই। চসারের ক্যান্টারবেরি টেইলস [Canterbury Tales] ইংরেজি সাহিত্যের একটি অমূল্য দলিল। সেখানেও এক রমনী একটি যীশুভক্ত শিশুর গল্প বলছেন। এক ইহুদির বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সে নাকি বাইবেলের একটি hymn বা স্তোত্র গাইছিল। তাতেই খেপে গিয়ে ইহুদি গৃহকর্তাটি তাকে হত্যা করে বসল। আর মার্লোর নাটক জিউ অফ মাল্টা [Jew of Malta] যারা পড়েছেন তাঁরা জানেন বারাবাস নামক ইহুদির চরিত্রটি কত নির্মম, ভয়াবহ। সে প্রথমে সুকৌশলে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করত তারপর হত্যা করত। মহাকবি শেক্সপিয়রও এই চরিত্রটির দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে শাইলক নামক এক তথাকথিত স্টিরিওটাইপ ইহুদি চরিত্রের জন্ম দিয়েছিলেন। তাঁর নাটক Merchant of Venice এত জনপ্রিয় হয় যে সমগ্র বিশ্বের পাঠক ভাবতে থাকে ইহুদিরা বুঝি এমনই নির্মম হয় ।
৪] আরেকটি কারণ অবশ্যই মেইনস্ট্রিম বা মূলস্রোতে সামিল না হওয়ার প্রবণতা। ইহুদিরা নিজেদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা বা কমপাউণ্ডেই বসবাস করত। এইসব অঞ্চল বা এলাকাই ঘেটো [Ghetto] নামে পরিচিত। ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষদের মধ্যেও এই প্রবণতাটি দেখা যায়। বলাই বাহুল্য এই যাপন প্রণালীটি মূল স্রোতের সন্দেহ এবং অবিশ্বাস উৎপাদন করে। পারস্পরিক মেলামেশার সুযোগ না থাকায় দুরত্ব বাড়ে।

৫] তবে সবচেয়ে বড় কারণটি ছিল ঈর্ষা। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। মেধাই বলুন আর সম্পদ সৃষ্টি বলুন উভয় ক্ষেত্রেই ইহুদি জাতিগোষ্ঠীটির ধারের কাছে কেউ নেই। সমসাময়িক জার্মানির ব্যবসা বাণিজ্যের সিংহ ভাগ এঁদের দখলেই ছিল। ব্যাংকিং থেকে বিনিয়োগ সর্বত্রই এঁদের একচেটিয়া আধিপত্য। জ্ঞান বিজ্ঞান শিল্প সাহিত্যেও এঁদের জুড়ি পাওয়া মুশকিল। ইজরায়েল নামক রাষ্ট্রটির দিকে কিঞ্চিৎ মনোযোগ দিলেই ছবিটি পরিষ্কার হয়ে যায়। কয়েক কোটি পেশি সর্বস্ব ভেড়ার চেয়ে কয়েক হাজার মেধা সম্পন্ন সিংহ যে অনেক বেশি কার্যকরী তা ইজরায়েল নামক দেশটির দিকে তাকালেই বোঝা যায়। ইহুদী সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ হোমল্যাণ্ড হিসেবে গড়ে ওঠা (১৯৪৮ সালে) এই দেশটির আকার যতটাই ক্ষুদ্র মেধা এবং ততোটাই তীব্র। জন্ম নেবার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই এই দেশটি সম্মিলিত আরব শক্তিকে পরাজিত করে। এই দেশটির আয়তন কত জানেন? মাত্র ৮৩৫৫ মাইল (২১, ৬৩৯ বর্গ কিমি)
আর জনসংখ্যা? বিরাশি লক্ষের সামান্য বেশি। (২০১৬ সালের হিসেব ৮২৩৪৪০৮) অর্থাৎ বিশ্ব জনসংখ্যার মাত্র ০.১১%। জনসংখ্যার নিরিখে পৃথিবীতে এই দেশটির স্থান ৯৮। তবু এই দেশটির সামরিক শক্তি আমাদের স্তম্ভিত করে। এমন দেশপ্রেম এবং জাতীয়তাবাদ খুব দেশেই পাবেন। এ নিয়ে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে রইল। প্রশ্ন জাগে এত কম সময়ে কী ভাবে এই দেশটি পৃথিবীর অন্যতম সবচেয়ে শক্তিধর ভূখণ্ডে পরিণত হল? সামরিক শক্তিতে প্রথম পনেরোটিদেশের মধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করল? উত্তর একটাই –মেধা, মেধা এবং মেধা। আর সঙ্গে খানিকটা দেশপ্রেম এবং ডেডিকেশন। পৃথিবীতে যত জিনিয়াস জন্মেছেন তার একটা বড় অংশই ইহুদী। আইনস্টাইন, নীলস বোহর, ম্যাক্স প্লাংক, ফ্রয়েড, ওয়াগনার, বেটোফেন, বাক, কার্ল মাক্স (যদিও তাঁর বাবা হারশেল মার্ক্স ইহুদী বিদ্বেষ থেকে বাঁচার জন্য নিজের ধর্ম লুকিয়ে রাখতেন), এমনকি আপনাদের প্রিয় বব ডিলানও একজন ইহুদী। আমি যাদের নাম বললাম তারা একটি ভগ্নাংশ মাত্র। নোবেল জয়ী ব্যক্তিত্বদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশই ইহুদী। অর্থনীতির ৪১%, মেডিসিনের ২৮%, পদার্থবিদ্যার১৬%, রসায়নের ১৩% আর শান্তির ৬% পুরস্কার ওঁরাই পেয়েছেন। আর জেসাস ক্রাইস্ট নিজেও একজন ইহুদি ছিলেন।
এবার নিশ্চয় বুঝেছেন ইহুদি নামক এই জাতিগোষ্ঠীটিকে ঈর্ষা করার যথেষ্ট কারণ আছে। তাই নাজিদের প্রচার শুরু হওয়ামাত্র লোভী, পরশ্রীকাতর জার্মানরা লুটপাট, গণহত্যায় মেতে উঠল। অনেক আগে থেকে সূত্রপাত হওয়া পোগ্রোম [ pogrom, জনতার দ্বারা ইহুদি হত্যা] বাড়তি ইন্ধন পেয়ে গেল। উন্মাদ , পৈশাচিক জার্মান জনতা ইহুদি ধরতে বেরিয়ে পড়ল। মশা, মাছি, ইঁদুরের চাইতেও নিকৃষ্ট হয়ে ওঠা অসহায় ইহুদিদের আত্মসমর্পন করা ছাড়া আর কোনো পথ ছিলনা।

কিন্তু স্বাধীনতার সত্তর বছর পর ভারতের মত একটি পিছিয়ে পড়া তৃতীয় বিশ্বের দেশে জাতীয়বাদী হিন্দুত্বের উত্থান ঘটল কেন ? যদিও এটিকে হিন্দুত্বের উত্থান বলা যাবে কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। একটি হিন্দু রাষ্ট্র তথা জাতীয়বাদী চিন্তাভাবনায় বিশ্বাসী একটি সংগঠনের [হ্যাঁ আর এস এস এর কথাই বলছি] রাজনৈতিক শাখা হিসেবে বি জে পি নামক দলটির অভূতপূর্ব সাফল্যকে হিন্দু উত্থানের প্রতীক হিসেবে দেখা যাবে কিনা, এখনও জোর দিয়ে বলা যাবেনা। রাজনৈতিক দলের উত্থান মানেই জনতার সামগ্রিক চেতনার প্রতিফলন এমন না ভাবাই ভাল। জাতীয়বাদ, হিন্দুত্ব, জিহাদি আধিপত্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, নাকি নিজেদের আখের গোছানোর জন্য রাশি রাশি মানুষ গেরুয়া দলটির দিকে ঝুঁকে পড়ছেন বোঝার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবু যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়াই যায় এটি হিন্দু জাতীয়তাবাদের উত্থান, সেক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ আছে। অর্থাৎ নাজি পার্টির উত্থান যে কারণে ঘটেছিল, এদেশেও তা পর্যাপ্ত পরিমাণে বিদ্যমান। জন্মভূমিকে চরম অসম্মান এবং দেশ বিরোধী শক্তির ক্রমবর্ধমান দৌরাত্ম। এই অসম্মান, অবমাননার বিরুদ্ধেই দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ গর্জে উঠেছেন। কেমন সেই অবমাননা ? আসুন দেখে নেওয়া যাক।
১] স্বাধীনতার প্রাক লগ্নে ধর্মীয় বিভাজনের জিগীর এবং অবিভক্ত ভারত হিসেবে স্বাধীনতা অর্জন না করা। অথচ পাকিস্তানের জন্মের কারণ হিসেবে ইসলামি মৌলবাদকে বিন্দুমাত্র দোষ না দিয়ে কেবল ব্রিটিশ ডিভাইড এণ্ড রুল নীতিকে দায়ি করা। বীর সাভারকর থেকে প্রজ্ঞাবান শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর দেশপ্রেমিকের সাবধান বাণী অস্বীকার করে ইসলামকে শান্তির ধর্ম হিসেবে প্রচার এবং পৃষ্ঠপোষকতা করা।
২] জহরলাল নেহেরুর নেতৃত্ত্বে বাম ইসলামিক ভাষ্যের সুপরিকল্পিত প্রচার এবং প্রসার। প্রখ্যাত জাতীয়বাদী ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদারকে সরিয়ে দিয়ে তা্রাচাঁদ নামের এক অখ্যাত অধ্যাপককে দিয়ে ভারতের বিকৃত ইতিহাস রচনা । পরবর্তী প্রধানমত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সময়েও এই ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে যদুনাথ সরকারের মত ঐতিহাসিক হারিয়ে যান। আলোতে নিয়ে আসা হয় রোমিলা থাপার, বিপান চন্দ্র, ইরফান হাবিব, মোহম্মদ হাবিব ইত্যাদি বাম ভাষ্যের মার্ক্সবাদী ঐতিহাসিক যারা ইতিহাস বিকৃত করেই ক্ষান্ত হলেননা, হিন্দুদের একটি নিকৃষ্ট পরাজিত জাতি হিসেবে চিত্রিত করলেন। জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়টি বিভিন্ন উচ্চপদে এই সব বাম ইসলামিক মনোভাবাপন্ন “পণ্ডিতদের” বসানো হল। মোটা মাইনের বিনিময়ে তাঁরা হিন্দু ধর্ম এবং সংস্কৃতির কুৎসা এবং ইসলামের গুণগান করা শুরু করলেন।
৩] নেতাজী সুভাষ, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, দীন দয়াল উপাধ্যায় ইত্যাদি জাতীয়বাদী নেতার রহস্যজনক পরিণতি অথবা মৃত্যু এই বাম ইসলামিক ভাষ্যের ষড়যন্ত্রকেই প্রতিভাত করে।
৪] স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই কাশ্মীরের জন্য ৩৭০ এবং ৩৫এ নামক দুটি কুখ্যাত ধারা মুসলমান তোষণের নির্লজ্জ উদাহরণ। এভাবেই দেশের ভেতর আর একটি দেশের জন্ম দেওয়া হয়। কাশ্মীরী পণ্ডিত সম্প্রদায় নিজের জন্মভূমিতেই পরবাসী হয়ে পড়ে। ১৯৯০ সালের আগেও সেখানে প্রায় ছয় লক্ষ হিন্দু বসবাস করতেন। পরিকল্পিত নির্যাতনের ফলে ২০১৬ সালে সেটি দুই হাজারে নেমেছে। এঁদের ঘরছাড়া করার উদ্দেশ্যে ধর্ষণ, হত্যা, লুটপাট, অগ্নি সংযোগ সব অস্ত্রই প্রয়োগ করা হয়েছে। সিকান্দার শাহ মিরির সময় শুরু করা চরম হিন্দু নির্যাতন স্বাধীনতার পরেও বহাল থেকেছে। ললিতাদিত্য মুক্তিপিদার কাশ্মীর এভাবেই মুসলমান অধ্যুষিত একটি জনপদে পরিণত হয়েছে।

৫] জরুরি অবস্থা চলাকালীন ভারতীয় সংবিধানে “সেকুলার” শব্দটিরকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। শ্রীমতি ইন্দিরা গান্দীর সময় হওয়া এই সংবিধান সংশোধন আইন সভার অনুমতি ছাড়াই করা হয়। ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হওয়া সত্ত্বেও এদেশে মুসলামানেরা দাপটের সঙ্গে বসবাস করতে থাকে। অথচ প্রতিবশী পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের উপর নির্যাতন বাড়তে থাকে। ভারতে বসবাসকারী মুসলমানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় কুড়ি শতাংশে পৌঁছলেও পাকিস্তানে সেটি প্রায় শূন্য ছুঁয়ে ফেলে। বাংলাদেশেও সেটি কমতে কমতে মাত্র ৮% ছুঁয়ে ফেলেছে। সেদেশের গবেষকই বলছেন আগামী ৩০ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ হিন্দু শূন্য হয়ে যাবে।

৬] যাবতীয় গণমাধ্যম [সংবাদপত্র, দূরদর্শন] বুদ্ধিজীবীকুলের ইসলামপ্রীতি এবং হিন্দু বিদ্বেষ অনেকের মনেই ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। হিন্দুদের উপর ঘটে যাওয়া নৃশংসতাকে আড়াল করা, মুসলমানের বিরুদ্ধে ঘটা তুচ্ছ ঘটনাকেও বড় করে দেখানো এই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ। তথাকথিত উচ্চবর্ণের হিন্দুদের বহিরাগত আর্য বলে মিথ্যা প্রচার চালানো, মুসলমান এবং পিছিয়ে পড়া এস সি, এস টি আদিবাসী, জনজাতিদের এদেশীয় বলে প্রতিপন্ন করে বিভেদের বীজ বপন করা, ভারত তেরে টুকরে হোঙ্গে শ্লোগানের মাধ্যমে জঙ্গিবাদকে মদত দেওয়া, হিন্দু বিশ্বাস এবং সংস্কৃতিকে নিকৃষ্ট এবং ঘৃণ্য বলে প্রতিপন্ন করার নিরন্তর প্রয়াস, হিন্দু দেবদেবীকে কেন্দ্র করে পূতিগন্ধময় কুৎসা এবং অপপ্রচার উগ্র জাতীয়বাদের উত্থানকে নিশ্চিত করতেই পারে।

৭[ বিশ্ব জুড়ে ইসলামি সন্ত্রাসবাদের [ পৃথিবীতে যত সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী আছে তার ৯৯% ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী। ] সুতীব্র নৃশংসতাকে আড়াল করার হাস্যকর প্রয়াস এবং হিন্দু সন্ত্রাস নামক হাস্যকর শব্দ এবং মিথ্যা সংবাদের প্রচার এই ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইসলামি জঙ্গি হানার কবলে পড়েনি এমন দেশ নেই বললেই চলে। এশিয়া থেকে আফ্রিকা, আমেরিকা থেকে ইউরোপ সর্বত্রই এখন জিহাদের আগ্রাসন। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন হাজার হাজার মানুষ। বলাই বাহুল্য ভারতই এর সবচেয়ে বড় শিকার। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী কোনো অঞ্চলই এখন নিরাপদ নয়। মুম্বাই বিস্ফোরণ থেকে শুরু করে ছাব্বিশ এগারোর নরমেধ সব মিলিয়ে ২০১৬ পর্যন্ত ১২০০২ টি হামলা হয়েছে, নিহত হয়েছেন ১৯৮৬৬ জন নিরপরাধ মানুষ, আহত হয়েছেন প্রায় ৩১০০০ ! এর মধ্যে জম্মু কাশ্মীরের হিসেবটা কিন্তু নেই। সেখানে মৃত সৈনিকের সংখ্যাই সাড়ে পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে।

৮] স্বাধীনতার সত্তর বছর পরেও অভিন্ন দেওয়ানী বিধি থেকে শুরু করে হিন্দু মুসলমানের জন্য সঠিক, সুনির্দিষ্ট আইন চালু করা যায়নি। তিন তালাক জাতীয় লিঙ্গ বৈষম্যমূলক প্রথা বাইশটি ইসলামিক দেশে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এদেশে এখনও বহাল তবিয়তে চলছে। ফ্রান্স, অষ্ট্রিয়া, বেলজিয়াম ইত্যাদি দেশে বোরখা নিষিদ্ধ হলেও এদেশে তিন তালাকের মত বর্বর প্রথা তুলে দিতে চাইলে মুসলমান এবং মিডিয়া যুগপৎ প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংক বাঁচিয়ে রাখার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলিও এই অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে।

৯) ১৯৪৭/৪৮ সালে এদেশে মাদ্রাসার সংখ্যা ছিল মাত্র ৮৮টি। ২০০৬ সালে সেটি বেড়ে আট লক্ষে দাঁড়িয়েছে। জঙ্গি কার্যকলাপ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে অনেকেই এই মাদ্রাসাগুলিকে দায়ি করেছেন। কিন্তু প্রশাসন অথবা মিডিয়া কারও এব্যাপারে কোনো হেলদোল নেই। মেকি ধর্মনিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে মুসলমানদের জন্য এই সমান্তরাল শিক্ষাব্যবস্থাটি রমরমিয়ে চলছে। অথচ হিন্দুদের সংস্কৃত টোল কবেই উঠে গেছে।
অজস্র উদাহরণের কয়েকটি মাত্র উল্লেখ করলাম।
এদেশে যদি উগ্র হিন্দুত্ববাদের উত্থান হয়েই থাকে তবে উপরিউক্ত কারণগুলি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সত্তর বছর ধরে সংখ্যাগুরু মানুষ এবং সংস্কৃতির সুপরিকল্পিত অবমাননা দক্ষিণপন্থী উগ্রতার জন্ম না দিলেই অবাক হব। সেটিই ঘটেছে। ভবিষ্যতে এই মেরুকরণ আরও তীব্র হতেই পারে। কিন্তু মেকি ধর্মনিরপেক্ষতা তথা জিহাদি বিরোধী এই উত্থান কি নাজি দলের সঙ্গে তুলনীয় ? নির্যাতিত ইহুদিদের সঙ্গে কি জিহাদি মুসলমানদের তুলনা চলে ? একে কি অ্যান্টি সেমিটিক বা রেইসিজম [Racism ] বলা যায় ? একেবারেই নয়। সামান্য কয়েকটি পর্যবেক্ষণই সত্য অনুসন্ধানে সাহায্য করবে।
১] ইহুদিরা যেমন একটি জাতিগোষ্ঠী অর্থাৎ রেইস মুসলমানরা তেমন নয়। একজন নিগ্রো যেমন অনায়াসে মুসলমান হতে পারে, একজন শাদা চামড়ার ইউরোপিয়ানও ধর্মান্তরের মাধ্যমে মুসলমান হতে পারেন। এমন অনেক ঘটেছে, এখনও ঘটছে। যেহেতু ইসলাম কোনো জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় তাই মুসলমান বিদ্বেষকে অ্যান্টি সেমিটিক বা রেইসিজম [racism] বলা কখনই যুক্তিসঙ্গত নয়।

২] ইহুদিদের প্রতি নেতিবাচক ধারণা মূলত ইউরোপেই সীমাবদ্ধ ছিল। কারণ খ্রিস্টানরাই তাঁদের প্রতি বিদ্বেষভাবাপন্ন ছিল। অন্যান্য জাতি বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর কাছে ইহুদিরা ঘৃণ্য এমন কোনো প্রমাণ বা নজির নেই। কিন্তু সমগ্র বিশ্ব জুড়েই মুসলমান তথা ইসলামের প্রতি একটি নেতিবাচক ধারণার জন্ম হয়েছে এবং দ্রুত গতিতে বেড়ে চলেছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, খ্রিস্টান কোনো ধর্মের সঙ্গেই তাঁরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে সক্ষম হচ্ছেননা। এমন কি ইসলামি রাষ্ট্রেও নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছেন। পাকিস্তান, ইয়েমেন, সৌদি আরব, সিরিয়া ইত্যাদি দেশে শিয়াদের উপর সুন্নিদের আক্রমণ বেড়েই চলেছে।

৩] ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষকে কখনই নির্যাতিত ইহুদিদের সঙ্গ তুলনা করা চলেনা। ১৯৪৮ সালে ইজরায়েল দেশটির জন্ম পর্যন্ত হাজার হাজার বছর ধরে ইহুদিরা চরম নির্যাতিত হয়েছে। কখনও খ্রিস্টানদের হাতে, কখনও মুসলিমদের রোষে, কখনও বা হিটলারের মত রেইসিস্ট একনায়কের হাতে। ধর্মান্তরের মাধ্যমেই বলুন, অস্ত্রের সাহায্যই বলুন ইহুদিরা কখনও বিশ্ব আধিপত্যের স্বপ্ন দেখেনি। ১৯৩৩ সালের হিসেব অনুযায়ী সমগ্র ইউরোপে তখন মাত্র সাড়ে নয় মিলিয়ন বা ৯৫ লক্ষ ইহুদি ছিল।অর্থাৎ বিশ্বের প্রায় ৬০% ইহুদিই ইউরোপে থাকতেন। অথচ ইসলামের জন্মের প্রায় তিন হাজার বছর আগে জুদাইজমের আবির্ভাব। বিশ্ব আধিপত্যের বাসনা থাকলে ইহুদিরাও খ্রিস্টান এবং মুসলমানের মত ধর্মান্তরে জোর দিত। এই ৯৫ লক্ষ ইহুদির মধ্যে ৬০ লক্ষই হিটলারের শিকার হয়েছিলেন। অথচ মাত্র ১৪০০ বছরে ইসলাম প্রায় পঞ্চাশটি দেশে নিজের আধিপত্য বিস্তার করেছে। এশিয়া, আফ্রিকার অনেক দেশে তারা রীতিমত রাজত্ব করেছে। ভারতও প্রায় আটশ বছর ইসলামি শাসনের অধীনে ছিল। পৃথিবীতে এই মুহূর্তে মুসলমানের সংখ্যা ১৮০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। তাই মুসলমান সম্প্রদায়কে কখনই নির্যাতিত বলা যায়না। ১৪০০ বছর পুরানো একটি ধর্মকে একুশ শতকেও অক্ষরে অক্ষরে পালন করার তাগিদ, ধর্মগ্রন্থ ছাড়া অন্য কোনো বই, জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চার প্রতি অনাগ্রহ, অত্যধিক জন্মহার ইত্যাদি কারণেই তারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে আছে। এর সঙ্গে নির্যাতন, নিপীড়নের কোনো সম্পর্ক নেই।
দেশ জুড়ে যে ইসলাম বিদ্বেষ [ইউরোপ আমেরিকায় যাকে ইসলামোফোবিয়া বলে অভিহিত করা হচ্ছে] তার কারণ বিশ্ব জুড়ে যে সন্ত্রাসবাদীদের বাড়বাড়ন্ত তারা প্রায় সবাই এই ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে। ইসলামকে শান্তির ধর্ম বলে প্রচার করা হলেও ইসলামি ধর্মগ্রন্থগুলিতেই বিধর্মী হত্যার ইন্ধন এবং সমর্থন আছে বলে অভিযোগ। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংসের পরই সমগ্র বিশ্ব জুড়ে অমুসলিমদের মধ্যে ইসলামিক ধর্মগ্রন্থগুলি পড়ে দেখার আগ্রহ জন্মায়। কাফের অর্থাৎ অমুসলিমদের কাছে জিহাদি কার্যকলাপের পটভূমি এবং পরিষ্কার হতে আরম্ভ করে। ইহুদিদের ক্ষেত্রে যে ঈর্ষা কাজ করেছিল মুসলমানদের ক্ষেত্রে তার প্রশ্নই আসেনা। জ্ঞান বিজ্ঞান প্রগতি সর্ব ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা এই ধর্মীয় গোষ্ঠীটিকে পাগলেও ঈর্ষা করবেনা। ১৮০ কোটির মুসলিম বিশ্বে সাকুল্যে আটটি নোবেল প্রাইজ ! তাও প্রাপকেরা অমুসলিম দেশের অধিবাসী হিসেবেই এই সম্মান পেয়েছেন।কারণ কোনো ইসলামিক দেশেই জ্ঞান বিজ্ঞান গবেষণা বা শিল্প চর্চার পরিবেশ, পরিকাঠামো নেই। মূল স্রোতে মেশার তীব্র অনীহা, সহিংসতা, গণতান্ত্রিক আইন কানুনকে অগ্রাহ্য করে বর্বরোচিত ধর্মীয় অনুশাসনকে প্রাধান্য দেওয়া, দেশের জিডিপি বা গড় উৎপাদনে কোনো অবদান না রেখে সামাজিক সুরক্ষা বা সাবসিডির অর্থে জীবন যাপন করা ইত্যাদি কারণে সমগ্র বিশ্বের অমুসলিমদের চোখে তারা অপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। সমস্ত মুসলমানকেই সন্ত্রাসবাদী এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু অপেক্ষাকৃত উদারপন্থী বা মডারেট অংশটিও ইসলাম রক্ষায় যেভাবে পথে নামেন, প্রতিবাদ করেন [উদাহরণ স্বরূপ তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে কলকাতায় গণ বিক্ষোভ, ভাঙচুর] আইসিস, আল কায়দা, আল শবাব, লস্কর ই তোইবা, হিজবুল মুজাহদিন, জামাত ইত্যাদি জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামের নামে যে হত্যালীলা চালায়, তার বিরুদ্ধে কোনো সন্ত্রাসবিরোধী মিছিলের আয়োজন হয়না। বলাই বাহুল্য বৃহৎ অংশের এই নীরবতা অমুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছে কোনো শুভ বার্তা দিচ্ছেনা।

জাতীয়বাদী উত্থানের পটভূমিকা হিসেবে দেশ অবমাননা, বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির বাড়বাড়ন্ত নিঃসন্দেহে উদ্দীপকের কাজ করে। জার্মানি এবং ভারত উভয় দেশের ক্ষেত্রেই এটি বিদ্যমান। কিন্তু এদেশের গেরুয়া দলটি কি জার্মানির নাজি পার্টির মত নৃশংস এবং স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠবে ? সুদূর ভবিষ্যতেও সম্ভব নয়। কারণ জাতীয়বাদী দলের জন্ম হতেই পারে কিন্তু হিটলার হয়ে উঠতে গেলে কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন বা ৩০০/ ৪০০ আসন জেতা নয়। সর্বাধিনায়কের ব্যক্তিত্বটিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এদেশে তেমন কোনো নেতার আবর্ভাব ঘটেছে বলে মনে করিনা। তাছাড়া হিটলারের সমসাময়িক বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের তুলনা করলে বাতুলতা হবে। সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ এখন যথেষ্ট শক্তিশালী এবং প্রতিবেশী দেশ তথা বিশ্ব শক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়েই ভারতকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এদেশের গণতান্ত্রিক সংবিধানও সংখ্যালঘু মানুষের রক্ষা কবচের মত কাজ করছে। এছাড়া বিজেপি দলটি কখনই মুসলমান বিদ্বেষী নয়। হিন্দু কর্মী সমর্থকের পাশাপাশি অজস্র মুসলমানও এদলে আছেন। এদলে যোগদানের একমাত্র শর্ত দেশের প্রতি ভালবাসা। ধর্ম কোনো বাধা নয়। জিহাদি বলে পরিচিত মুসলমানও সম্প্রতি রাজ্য বিজেপিতে যোগদান করেছেন। লাভপুরের এই বিধায়ক এখন অম্লানবদনেই জর শ্রীরাম বলছেন । গেরুয়া দলটির চালিকা শক্তি আর এস এস ও কখনও মুসলমান বিদ্বেষকে উৎসাহিত করেনা। এই সংগঠনেও অনেক মুসলমান সদস্য আছে। বড় জোর ঘর বাপসি অর্থাৎ হিন্দু ধর্ম গ্রহণের কথা মাঝে মধ্যে বলা হয়ে থাকে। দীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকার পরেও এদেশে মুসলমান সম্প্রদায়ের উপর ব্যাপক আক্রমণ নেমে এসেছে এমন কথা চরম পাগলেও বলবেনা। দু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সংঘবদ্ধ বা পরিকল্পিত আক্রমণের কোনো খবর নেই। গুজরাত দাঙ্গার উদাহরণ দিলেও, একথা অনস্বীকার্য যে সেটি গোধরায় সবরবতী এক্সপ্রেসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পাল্টা প্রতিক্রিয়া ছিল। যদিও একে কোনভাবেই সমর্থন করা যায়না। সবকা সাথ, সবকা বিকাশ — এই শ্লোগানটিকে কোনো সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ আছে?
তবে কি এই গেরুয়া দলটি থেকে কোনো স্বৈরাচারী একনায়কের আবির্ভাব ঘটতে পারে ? না, তার কোনো সম্ভাবনাই দেখছিনা।এই মুহূর্তে এই দলটিকে আমি গড়পড়তা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবেই দেখি, যা নির্বাচনের জেতার লক্ষ্যেই নিজেকে পরিচালিত করছে। তবু যদি তর্কের খাতিরে ধরেও নেওয়া যায় মোদি অথবা যোগী কোনো একজন অসীম ক্ষমতাধর একনায়ক হয়ে উঠলেন। তাতেও ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের অস্তিত্ব সংকট ঘটবেনা। ষাট লক্ষ ইহুদিকে হত্যা করা যতটা সহজ ত্রিশ কোটি মুসলমানকে ধ্বংস করা ততটাই কঠিন। গ্যাস চেম্বার তো নস্যি, কয়েক ডজন পারমাণবিক বোমাও সেকাজ করতে পারবেনা।একুশ শতকে সেটি কল্পনাও করাও হাস্যকর। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নয় বলেই চীন অথবা মায়ানমার মুসলমানদের প্রতি এতটা কঠোর হতে পেরেছে। সংখ্যাটি কয়েক লক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ বলেই দমনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভবপর হয়েছে। একনায়কের হাতে ক্ষমতা কেন্দীভূত হলে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অসম্ভব। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, জনসংখ্যায় লাগাম, মাদ্রাসাঁ শিক্ষার বিলোপ ইত্যাদি বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা গেলেও ডিক্টেটরশিপ ব্যতীত প্রয়োগ করা অসম্ভব। স্বৈরাচারী নায়কের আবির্ভাব ঘটলে বড় জোর এই সদর্থক কাজগুলি হতে পারে। কিন্তু হিটলারি কায়দায় নরসংহার আকাশ কুসুম কল্পনা মাত্র। নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বাম দলগুলি এই মর্মে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কী বললেন ? বিশ্বাস হচ্ছেনা ? আপনি এখনও মনে করেন ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের উপর নির্যাতন নামিয়ে আনা হয়েছে ? বেশ খোঁজ নিয়ে দেখুন গত বিজেপি জমানায় কটি মুসলমান পরিবার এদেশের মাটি ছেড়ে পাকিস্তান বা বাংলাদেশে পালিয়েছে। কাশ্মীরী পণ্ডিতরা যেভাবে ভিটে মাটি ছেড়ে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে এসেছিল, প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান থেকে এখনও যেভাবে সংখ্যালঘু হিন্দুরা এদেশে পালিয়ে আসছে ! তারপর আপনার সঙ্গে কথা হবে ! নিপীড়ন কি অথবা কাকে বলে !
তবু প্রশ্ন থাকে। আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষার আলোকে এই সম্প্রদায়টি যদি অনতিবিলম্বে আলোকিত না হয় বা মূল স্রোতের অঙ্গীভূত হতে ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে কি ঘটবে? অবশ্যই রাষ্ট্রকেই এগিয়ে আসতে হবে। কঠোর আইন কানুন বা অন্য কোনো কৌশল প্রয়োগ করে যাতে এই জিহাদী মানসিকতায় পরিবর্তন আনা যায়। ইউরোপের অনেক দেশ যেমন ফ্রান্স, পোল্যাণ্ড, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ইত্যাদি দেশে বেশ কিছু আইন ইতিমধ্যেই কার্যকরী হয়েছে। শরণার্থী বিরোধী দক্ষিণপন্থী সরকারগুলি প্রকাশ্যে বোরখা যেমন স্কুল কলেজ দপ্তর ইত্যাদিতে নিষিদ্ধ করেছে। পথ আটকে নামাজ পড়ার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা হচ্ছে। আদিম প্রথায় কোরবানি পালনও অনেক সভ্য দেশে নিষিদ্ধ হয়েছে। AFD নামক দলটি জার্মানিতে ক্ষমতায় এলে ( আগামী নির্বাচনেই এঁরা নিশ্চিতভাবে জয়ী হবেন) এই সব আইন লাগু হবে বলে আগাম জানানো হয়েছে। ভারতকেও এই পথে হাঁটতে হবে। ভোট ব্যাংক রাজনীতির উর্ধ্বে দেশ তথা সমাজকে স্থাপন করেই ভবিষ্যতের রূপরেখা নির্মাণ করতে হবে। ১৪০০ বছর পিছিয়ে থাকা সম্প্রদায়টিকে মূল স্রোতে সামিল করতে চাইলে এছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এবিষয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের আলোকপ্রাপ্ত মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। এই মুহূর্তে কল্যাণ কামী স্বৈরাচার বা বেনিভোলেন্ট ডিক্টেটরশিপই এদেশের জন্য আদর্শ। সেটি না হলে গণতন্ত্রের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে। যতটা সম্ভব। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের ডিজিটাল বিশ্বে এখন কোনো কিছুই গোপন নেই। রাষ্ট্র যদি হস্তক্ষেপ না করে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির মত গেরুয়া দলটিও ভোটব্যাংক সর্বস্ব হয়ে ওঠে, তবে গৃহযুদ্ধ অনিবার্য! চলতি বাংলায় যাকে দাঙ্গা বলা হয়।

সবকা সাথ সবকা বিকাশ শ্লোগানটি যত জোরেই উচ্চারণ করা হোক, সবার সঙ্গে যেমন থাকা যায়না। একযোগে সবার বিকাশও হয়না। বাঙালির হিন্দুত্ব মূলত জিহাদি আগ্রাসন এবং তাদের মদতদাতার বিরুদ্ধে সুতীব্র প্রতিক্রিয়া মাত্র। তাই এরাজ্যে অন্ততঃ সবার মনের মত হয়ে ওঠার চেষ্টা না করাই ভাল। ইংরেজি প্রবাদটি ভুলে গেলে আর একবার দেখে নেবেন — If you want to please everybody, you can please nobody.

পারলে স্টিভ জবস-এর উক্তিটিও একবার পড়ে নিন — If you want to make everyone happy, don’t be a leader, sell ice cream

1 COMMENT

  1. মনের জ্বালা জোড়ানো লেখা। তবে বামপন্থীদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হল যাবতীয় তথ্য অস্বীকার করে সূত্রকে চ্যালেঞ্জ করে যাওয়া। কোনও সূত্রের কোনও পরিসংখ্যানই তাদের নির্লজ্জ স্বার্থান্বেষী মিথ্যাচার বন্ধ করতে পারবে না। যাদের সহ্য হচ্ছে না, কিংবা আদৌ বামপন্থী ছিলই না কখনও, ছিল ভাড়ায় খাটা ক্যাডার, তারা হাওয়া বুঝে জাতীয়তাবাদী শিবিরে ঝুঁকেছে। প্রকৃত বাম কাদের বলে সেটা রহস্য ও বিতর্কিত বিষয়, কিন্তু এদেশে বাম দলগুলোর দীক্ষিত সমর্থকরা নিজেদের ঘৃণ্য অবস্থানে অনড় থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here