এপারের বাংলা ব্যাণ্ড কি তবে অস্তাচলগামী !

0

Last Updated on

শিবাজী প্রতিম

‘ব্যাণ্ড’ এবং ‘বাংলা’ শব্দদুটির এই সেদিন অবধিও অবস্থান ছিল বিপরীত মেরুতে। অনীক দত্তের ‘ভূতের ভবিষ্যত’ ছবিতে সত্তরের দশকের চরিত্র নকশাল নেতা ‘বিপ্লব দা’ ওরফে সব্যসাচী চক্রবর্তী তো বলেই ফেললেন ‘বাংলা ব্যাণ্ড….! বিট অফ অ্যান অক্সিমোরোন !’ কিন্তু ছবিটা পাল্টানো শুরু হয় সেই সত্তরের দশকেই। বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরেই ১৯৭৬-এ ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র প্রতিষ্ঠা, যা আত্মপ্রকাশ করে প্রথম এপার বাংলার ‘ব্যাণ্ড’ হিসেবে। শুরুতে কিছুটা থমকে থমকে চললেও ধীরে ধীরে শ্রোতাদের মধ্যে আবেদন তৈরি করতে তারা সমর্থও হয়। এক বছরের মধ্যে তাঁদের প্রথম অ্যালবাম বের হয়। ১৯৭৭এ আত্মপ্রকাশ করা সেই অ্যালবামের নাম ‘সংবিগ্ন পক্ষীকূল ও কলকাতা বিষয়ক’। একের পর এক যুগান্তকারী অ্যালবাম এবং তার যুগান্তকারী গান সব। তারপরে আর বাংলা ব্যাণ্ড ইণ্ডাস্ট্রিকে ফিরে তাকাতে হয়নি। আশি এবং নব্বইয়ের দশকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে থেকে একাধিক নতুন নতুন ব্যাণ্ড তাদের রাস্তাকে সুগম করে তোলে একাধিক নতুন নতুন সৃষ্টির মাধ্যমে। বাকিটা ইতিহাস।
কিন্তু কালের নিয়মেই একাধিক ব্যাণ্ডের উত্থান, প্রচারের আলোয় আসা এবং কালের নিয়মেই তাদের জনসমক্ষ থেকে সরে যাওয়ার সাক্ষী আমাদের এই বাংলার ব্যাণ্ড শ্রোতারা।

খুব স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠবে কেন….? কেন এত জনপ্রিয় একটা শিল্প মাধ্যমের অবস্থা আগের মত আর নেই…? কোনো পক্ষ কি দায়ী তার জন্য…? প্রথমেই যে কারণটা লেখকের মনে এসেছে, সেটা হল ইলেকট্রনিক মিডিয়া। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার একটা অংশ এক-দেড় দশক আগে অবধি ব্যাণ্ডগুলির উত্থানের জন্য যে ভূমিকা নিয়েছিল, কোনো এক অজানা কারণে সেখান থেকে সরে আসে। ফলে যা হওয়ার তাই হল। কলেজ-ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদের বাইরে একদল শ্রোতা তৈরি হওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হল৷ সে সাথে মেইনস্ট্রিম গানের জগৎও খানিকটা দায়ী। তাদেরও এই তথাকথিত ‘অল্টারনেটিভ মিউজিক’ ইন্ডাস্ট্রির প্রতি অনীহা সম্ভাবনাগুলোকে নষ্ট করল খানিকটা। তবে তথাকথিত বাংলা রক মিউজিকও তার বিপুল প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ নয়। রক মিউজিকের মূল বিষয়ই হল তার প্রতিষ্ঠানবিরোধী ভাব। তথাকথিত সিস্টেমের বিরুদ্ধে গিয়ে কথা বলা। সেরকম কাজ যে বাংলা রকে হয়নি এমনটাও বলা একদমই ভুল। কমবেশি সব ব্যাণ্ডই যুগান্তকারী সব কাজকর্মের সাক্ষর রেখেছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে আবার সিস্টেমের বিরোধীতা করতে গিয়ে গা জোয়ারি ভাব দেখিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সিস্টেমের সাথে আপসও করেছে বা এখনও মাঝে মাঝে করছে। হয়তো আমাদের সমাজই এখনও অতখানি সাবালক হয়নি। সে হিসেব না হয় সময়ই করবে। তবে একবারে আশা নেই এমনও না। গতানুগতিক কাজের বাইরে গিয়েও অনেক কাজ হচ্ছে মাঝে মাঝেই। দরকার কেবল একটা বিপ্লবের যা সব কিছুকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে, পুরোনো সব কিছু ভেঙে নতুন সৃষ্টির দিকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here