বিতর্কে ‘দ্য তাসখন্দ ফাইলস’

0

Last Updated on

বিতর্কে ‘দ্য তাসখন্দ ফাইলস’

লেখক: শিবাজী প্রতিম

ফের সংবাদ শিরোনামে বিবেক অগ্নিহোত্রী। মুক্তি পাওয়ার আগেই লাল ফিতের ফাঁসে আটকে পড়ল ‘দ্য তাসখন্দ ফাইলস’। দেশের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুরহস্য নিয়ে বানানো ‘বুদ্ধ ইন আ ট্রাফিক জ্যাম’ খ্যাত এই পরিচালককে এবার আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন স্বয়ং লালবাহাদুর শাস্ত্রীর পৌত্র বিভাকর শাস্ত্রী ও দিবাকর শাস্ত্রী। সূত্রের খবর আইনি নোটিশ পাঠানোর সাথে সাথে সাংবাদিকদের কাছে তারা নাকি অভিযোগ জানিয়েছেন ছবিটির মান নিয়ে। এমনকি একে ‘প্রোপাগ্যান্ডা ফিল্ম’ বলেও অভিযোগ তাদের৷ পরিচালক অবশ্য নেহেরু গান্ধি পরিবারের দিকে আঙুল তুলেছেন তার পাল্টা অভিযোগ তাদের উস্কানিতেই নাকি ওনারা আদালতের দারস্থ হয়েছেন। কিন্তু কি এমন ছিল যার জন্য নাকি একে বিতর্কিত আখ্যা দিতে হল!
১৯৬৪ সালের মে মাস। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু সবে মারা গেছেন। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন সে নিয়ে দিল্লীর দরবারে জোর গুঞ্জন। প্রথমে উত্তরপ্রদেশ সরকারের এবং পরে নেহেরুর ক্যাবিনেটে একাধিক দায়িত্ব সামলানো বেঁটেখাটো, খুবই শান্ত ঠাণ্ডামাথার এবং নেহেরুর চেয়ে অনেক লো প্রোফাইল আর প্রচারের আলোয় না থাকা এক ব্যাক্তি পার্টির ভিতরের অনেক তাবড় নেতার আপত্তি স্বত্তেও প্রধানমন্ত্রী হলেন। যার নাম লালবাহাদুর শাস্ত্রী। অনেক ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ স্বত্তেও বেশ কিছুদিন যাবৎ সামলেও দিলেন গুরুদায়িত্ব। তারপর এল ১৯৬৫ সাল। শুরু হল ভারত-পাক যুদ্ধ। লালবাহাদুরের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সামরিক বাহিনী সফলতার দিকেও অগ্রসর হল। তবু যুদ্ধ থামেনা। অবশেষে সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় দুদেশ আলোচনায় বসতে সম্মত হল৷ আলোচনার জায়গা ঠিক হল সাবেক সোভিয়েতের উজবেক এসএসআরের তাসখন্দে। ১০ঐ জানুয়ারি ১৯৬৬ তে দুদেশের মধ্যে সমঝোতা হয়ে গেল যার পোষাকি নাম ‘তাসখন্দ ডিক্লেয়ারেশন। কিন্তু ঘটনার ছন্দ পতন হল তার পরের দিন। রাত দুটোয় আচমকা তার রহস্যমৃত্যু হয়। রহস্য আরো বাড়ল যখন ভারত সরকার তার মৃত্যু নিয়ে কোনো তথ্য দিলোনা। লালবাহাদুর শাস্ত্রীর পত্নী ললিতা শাস্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন তাকে নাকি বিষ পান করিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

আবারও সংবাদ শিরোনামে বলিউড চিত্র-পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী।মুক্তি পাওয়ার আগেই লাল ফিতের ফাঁসে আটকে পড়লতাঁর পরিচালিত ছবি’দ্য তাসখন্দ ফাইলস’|’বুদ্ধ ইন আ ট্রাফিক জ্যাম’ খ্যাত এই পরিচালকের দেশের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুরহস্য নিয়ে বানানো বিতর্কিত ছবি ‘দ্য তাসখন্দ ফাইলস’এর বিরুদ্ধে এবার আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন স্বয়ং লালবাহাদুর শাস্ত্রীর পৌত্র বিভাকর শাস্ত্রী ও দিবাকর শাস্ত্রী। সূত্রের খবর,আইনি নোটিশ পাঠানোর সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের কাছে তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন ছবিটির মান নিয়েও|তাঁদের মতে এটি একটি ‘প্রোপাগ্যান্ডা ফিল্ম’৷পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী যদিও এই সবের জন্য নেহেরু-গান্ধি পরিবারের দিকে আঙুল তুলেছেন|তাঁর পাল্টা অভিযোগ,ওই বিশেষ পরিবারটির উস্কানিতেই নাকি লালবাহাদুর শাস্ত্রীর পৌত্র বিভাকর শাস্ত্রী ও দিবাকর শাস্ত্রী আদালতের দারস্থ হয়েছেন।কিন্তু কী এমন ছিল যার জন্য এত বিতর্ক|
সময়টা ১৯৬৪ সালের মে মাস।প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর মৃত্যুর পর দিল্লি মসনদে কে বসবেন নেহেরুর যোগ্য উত্তরসূরী হয়ে?সে নিয়ে দিল্লীর দরবারে যখন জোর গুঞ্জন,প্রথমে উত্তরপ্রদেশ সরকারের এবং পরে নেহেরুর ক্যাবিনেটে একাধিক দায়িত্ব সামলানো বেঁটেখাটো, খুবই শান্ত,ঠাণ্ডা মাথার তবে নেহেরুর চেয়ে অনেক লো প্রোফাইল ও প্রচারের আলোয় না থাকা এক ব্যাক্তি পার্টির ভিতরের অনেক তাবড় নেতার আপত্তি স্বত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী হলেন।নাম লালবাহাদুর শাস্ত্রী।অনেক ব্যঙ্গ বিদ্রুপ সহ্য করেও বেশ কিছুদিন যাবৎ সামলেও দিলেন গুরুদায়িত্ব।তার কিছুদিন পর ১৯৬৫ সালে শুরু হল ভারত-পাক যুদ্ধ।লালবাহাদুরের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ভারতের সামরিক বাহিনী সফলতার সঙ্গে অগ্রসর হল।তবুও যুদ্ধ থামেনা।অবশেষে সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় যুদ্ধরত দুদেশ আলোচনায় বসতে সম্মত হল৷আলোচনার স্থান ঠিক হল সাবেক সোভিয়েতের উজবেক এসএসআরের তাসখন্দে। ১৯৬৬সালের ১০ই জানুয়ারি দুদেশের মধ্যে সমঝোতা হয়ে গেল,যার পোষাকি নাম’তাসখন্দ ডিক্লেয়ারেশন।কিন্তু ঘটনার ছন্দ পতন হল তার ঠিক পরের দিন।রাত দুটোয় আচমকা মৃত্যু হয় প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর। রহস্য আরও বাড়ল যখন ভারত সরকার তাঁর মৃত্যু নিয়ে কোনো তথ্য জনসমক্ষে পেশ করল না।শোনা যায়, লালবাহাদুর শাস্ত্রীর পত্নী শ্রীমতি ললিতা শাস্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন,তাঁর স্বামী লালবাহাদুর শাস্ত্রীকে নাকি বিষ পান করিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।

বিবেক অগ্নিহোত্রীর ‘দ্য তাসখন্দ ফাইলস’ছবির বিষয় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই।পরিচালক খুব সহজ ভাবে কয়েকটি প্রশ্ন তুলে ধরেছেন দর্শকের সামনে।কেন মৃত্যুর এতদিন পরেও সত্য উদ্ঘাটনে একটিও এনকোয়ারি কমিশন বসানো হল না|কেনই বা কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হল না|এরকম অজস্র না জানা তথ্য পরিচালক তুলে ধরেছেন এই ছবিতে যা স্বভাবতই একাধিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।’বুদ্ধ ইন আ ট্রাফিক জ্যাম’ছবিতেও পরিচালকের তীর একটি বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শের কিছু মানুষদের দিকে ছিল বলে সমালোচকেরা মনে করেন,যা সেই সময়ও নানান বিতর্কের জন্ম দেয়|বিতর্ক ছবিটি মুক্তি পাওয়ার আগে আদালতের স্থগিতাদেশকে কেন্দ্র করেও।কিন্তু কারা কারা চাইছে ছবির মুক্তি পিছিয়ে দিতে?কোনও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠির বা কোনো রাজনৈতিক দলের কি লাভ-লোকসানের অঙ্ক আছে এই ছবিকে কেন্দ্র করে?কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য এই ছবির বিষয়ে মুখে কুলুপ আঁটা হয়েছে|যদিও ওয়াকিবহাল মহলের মত কংগ্রেস কখনোই চায়না এ ধরণের পুরোনো কোনও বিতর্ককে সামনে আনা হোক,বিশেষত দেশের সাধারণ নির্বাচন যখন দোরগোড়ায়।সত্য উদ্ঘাটনে বিরোধী তথা কং-শিবিরের নির্বাচনী ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের কথাও বলছেন কেউ কেউ।তাহলে কি তৎকালীন নেতৃত্বের যোগসাজশেই কোনো বৃহৎ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠি বা বিদেশি গুপ্তচর সংস্থা শাস্ত্রীর মৃত্যুর ঘুঁটি সাজানোর পিছনে দায়ী !এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে ‘দ্য তাসখন্দ ফাইলস’| এখন শুধুই মুক্তির অপেক্ষা।

Disclaimer : লেখকের মতামত একান্তই ব্যক্তিগত